হাসপাতালে ধর্ষন, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হাসপাতালে ধর্ষন, ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এসবিসি, কক্সবাজার : জেলার উখিয়ায় হাসপাতাল থেকে রোগীর মেয়েকে তুলে নিয়ে দূর্বৃত্তদের কর্তৃক ধর্ষনের ঘটনায় চারজনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। কারন দর্শানো হয়েছে হাসপাতালে নৈশ প্রহরীদের।

আজ দুপুরে ধর্ষনের শিকার শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে একজনের নাম প্রকাশ ও  তিনজনকে অজ্ঞাত আসামী করে দায়ের করা মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়েছে বলে জানান উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের।

মামলার প্রধান আসামী গিয়াস উদ্দিন (২৫) ঘটনাস্থল হাসপাতাল সংলগ্ন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্ব সিকদার পাড়ার বাসিন্দা। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে আরো ৩ জনকে।

ধর্ষনের শিকার মেয়েটি ১৩ বছরের কিশোরী। উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। ধর্ষনের শিকার মেয়েটির মা বলেন, সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত আমার মেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বাবার সাথে হাসপাতালে আমাকে দেখতে আসে।

ঘরে ছেলে মেয়ে ছাড়া কেউ না থাকায় মেয়ের বাবা মঙ্গলবার রাতে জালিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব সোনারপাড়া গ্রামের বাড়ি চলে যায়। তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওয়ার্ড থেকে পার্শ্ববর্তী বাথরুমে যাওয়ার সময় হাসপাতাল করিডোর থেকে দূর্বৃত্তরা আমার মেয়েকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ও হাসপাতালের রোগীরা চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও নৈশ প্রহরীরা হাসপাতালের উত্তর পাশের বাউন্ডারি ওয়াল সংলগ্ন কবরস্থান থেকে রাত ১টার দিকে বিবস্ত্র অবস্থায় কিশোরী স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
কিশোরীর পিতা বলেন, একটি সরকারি হাসপাতালে সব কিছু থাকার পরও কি করে দূর্বৃত্তরা হাসপাতালের ২য়তলায় উঠে আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায়, তারপর তাঁর এতো বড় সর্বনাশ ঘটালো এবং এর আদৌ সুষ্টু বিচার পাব কিনা কিংবা বিচার চাইতে পারি কিনা জানা নেই। মঙ্গলবার সকালে দূর্বৃত্তরা হাসপাতালের বেডে এসে আমার স্ত্রীকে এই ঘটনায় কোন ধরনের বাড়াবাড়ি করলে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে যায় ।

এ কারনে মেয়েকে দ্রুত বাড়িতে নিয়ে আসি। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ার পরও স্ত্রীকে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসি। আজ আমার স্ত্রী এসে থানায় মামলা করেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী উখিয়া হাসপাতালের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানান।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ধর্ষেনর শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠা স্কুলপড়–য়া মেয়েটির বাবা-মা’র সঙ্গে বাড়ীতে গিয়ে কথা বলেছি। ঘটনার ব্যাপারে কোন ধরণের ভয় ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। আজ দুপুরে ধর্ষিতা স্কুলপড়–য়া মেয়েটির মা বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ পূর্বক তিনজনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। অভিযোগ উঠা ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষা করতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে পুলিশ ঘটনার তদন্তপূর্বক আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

এসবিসি/এসএএম/এএস