এবার সিলেট

এবার সিলেট

এসবিসি রিপোর্ট : বাংলাদেশ রেলওয়ের ফেসবুক গ্রুপ পরিবারের এবারের পিকনিক হবে সিলেটে। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলোর মধ্যে রেলওয়ে একমাত্র বিভাগ, যেখানে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এত বিশাল একটা প্ল্যাটফর্মে একটি পরিবার হয়ে মিশে গেছে একে অপরের হাসি-আনন্দ, সুখ-দুঃখে। ফেসবুক থেকে তুলে ধরা হল ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এ পিকনিকের যাবতীয় তথ্য।

ইভেন্ট পেজে দেয়া ঘোষণায় বলা হয়েছে, “সম্মানিত গ্রুপ মেম্বারগণ,রেলফ্যান ভাই ও বন্ধুরা,সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ফেসবুক গ্রুপ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমরা বাৎসরিক পিকনিকের আয়োজন করতে যাচ্ছি। টানা তিন বছর শ্রীমঙ্গল,পাকশী ও কাপ্তাইতে সফল প্রোগ্রামের পর আমাদের এবারের আয়োজন অসাধারণ রূপ-লাবন্যে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে শোভিত অপরূপ লীলাভূমি সিলেটে।

দর্শনীয় স্থানসমূহঃ ১। ভারতের সীমান্তঘেঁষা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনপদ প্রকৃতি কন্যা হিসেবে খ্যাত জাফলং, ২।স্বচ্ছ নীল জলরাশি আর নৈসর্গিক সৌন্দর্য ঘেরা দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের স্থান লালাখাল, ৩।১৯৬৬ সালে নির্মিত রেলওয়ের স্মৃতিবিজড়িত সুনামগঞ্জের ছাতক-ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে যা এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম, ৪।মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ ও সীমান্তবর্তী ৩৬ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী পরিবারের বাসস্থান জুমগাঁও।

যাত্রা শুরু ও শেষের তারিখ ও সময়ঃ ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ সকাল ৬টা থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ রাত ৮ টা পর্যন্ত।

ভ্রমণবৃত্তান্তঃ

দিন-১
সকাল ৬ টায় সিলেট স্টেশনে রিপোর্টিং। হোটেলে চেক ইন ও সকালের নাস্তা শেষে সকাল ৯ টায় লালাখালের উদ্দেশ্যে যাত্রা। লালাখাল নৌভ্রমন ও চাবাগান দর্শন শেষে জাফলং এর উদ্দেশ্যে গমন। যাওয়ার পথে তামাবিল বর্ডারে কিছুটা সময় কাটিয়ে দুপুর দুটায় জাফলং বাজারে লাঞ্চ। এরপর পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ দর্শন শেষে হাতে সময় থাকা সাপেক্ষে খাসিয়াপল্লী ঘুরে বিকেল ৫ টায় জাফলং ত্যাগ। রাতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাজার জিয়ারত, কেনাকাটা বা সিলেট শহরে ঘোরাফেরা। রাত ৯ টায় সিলেটের বিখ্যাত পানসী হোটেলে রাতের খাবার শেষে ১০টায় হোটেলে প্রবেশ। সারাদিনের যাতায়াত মাধ্যম-রিজার্ভ বাস।

15941215_10207853205870934_5181812064900526895_n

দিন-২
সকাল ৬ টার ভেতর ফ্রেশ হয়ে সিলেট স্টেশনে রিপোর্টিং। সকাল ৭ টার ট্রেনে ছাতক এবং ট্রেনেই সকালের নাস্তা গ্রহণ। ছাতক নেমে স্টেশন থেকে মাইক্রোবাস যোগে বাঁশতলা যাওয়ার পথে ছাতক-ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে দর্শন। এরপর বাঁশতলা গমন ও স্মৃতিসৌধ দর্শন,পার্শ্ববর্তী দু’শতাধিক বছরের পুরোনো আদিবাসী গারো পাহাড়ে প্রকৃতির প্রকৃত চেহারা অবলোকন শেষে বিকেল ৫ টার ভেতর ছাতক স্টেশনে ফেরা। ছাতক হতে সন্ধ্যা ৭ টার ভেতর সিলেট ফিরে হোটেলে চেকআউট ও সিলেটের বিখ্যাত পাঁচভাই হোটেলে রাতের খাবার গ্রহন এবং সর্বশেষ নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা। সারাদিনের যাতায়াত মাধ্যম-ট্রেন(রিজার্ভ, মাইক্রোবাস (রিজার্ভ), ও রিজার্ভ বাস।

শুভেচ্ছা ফি : জনপ্রতি ১৮৪০/- টাকা(বিকাশ চার্জসহ)। বিকাশ প্রদানের নাম্বার : শোভন হোসেন ০১৬৭০২৭০৪৯৪ ও নাজমুল হুদা শিমু ০১৮১৯১১১৪৫৫। টাকা সরাসরিও পাঠাতে পারবেন। বিকাশ করার পর সংশ্লিষ্ট নম্বরে একটি এসএমএস এর মাধ্যমে আপনার মোবাইল নাম্বার,নাম প্রেরন করবেন এবং প্রেরিত টাকার পরিমাণ উল্লেখ করবেন।

টাকা জমাদানের শেষ তারিখ : ৬ই ফেব্রুয়ারী ২০১৭। যারা যারা যাবেন, তাদের উল্লেখিত সময়ের ভেতরেই সম্পূর্ণ টাকা প্রদান করতে অনুরোধ করা হল।উল্লেখিত সময়ের পর কোনভাবেই টাকা গ্রহণ বা নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

পিকনিক সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য ও সাহায্যের জন্য অঞ্চলভেদে নিম্নলিখিত নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ রইলঃ

ঢাকা,গাজীপুর,নরসিংদী ও তদসংলগ্ন অঞ্চল: শোভন হোসেন  ০১৬৭০২৭০৪৯৪, রাইসুল রাজন :০১৬৭৫০৯৮৪৩২। চট্টগ্রাম,ফেনী,কুমিল্লা ও তদসংলগ্ন অঞ্চল : নাজমুল হুদা শিমু ০১৮১৯১১১৪৫৫, আশরাফুল রুমেল : ০১৯২২৮০৪২৪৮, মোঃ জাকির ডালিম : ০১৬৭৪৪৪৭৭৭৭। ময়মনসিংহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ ও তদসংলগ্ন অঞ্চল: রাসেল সুমন  ০১৭১৭৩১৩০১৫। খুলনা, রাজশাহী ও তদসংলগ্ন অঞ্চল : রিপন এহসান : ০১৯১৫-৫১৮৩১১। এছাড়াও আপনার যে কোন ধরনের অনুসন্ধান বা জিজ্ঞাসা থাকলে ইভেন্ট ওয়াল এ শেয়ার করুন।

উল্লেখ্যঃ নিজ গন্তব্য থেকে সিলেট যাওয়া ও সিলেট থেকে নিজ গন্তব্যে ফেরার খরচ এবং সিলেট শহরের মধ্যবর্তী যাতায়াত খরচ(স্টেশন-হোটেল-স্টেশন) উক্ত চাঁদার অন্তর্ভুক্ত নয়।

প্রতি পিকনিকের ন্যয় এবারেও গ্রুপের পক্ষ থেকে টি-শার্ট বানানো হবে যার মূল্য শুভেচ্ছা ফি-তে অন্তর্ভুক্ত। টিশার্টের সাইজ সংক্রান্ত বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য বিকাশ করার সাথে সাথে প্রদত্ত মেসেজে আপনার টিশার্টের সাইজ(M/L/XL/XXL)উল্লেখ করে দিন। যাতায়াত সংক্রান্ত যে কোন ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।আমাদের এই আয়োজনে গ্রুপের সম্মানিত মেম্বারগণের সদয় উপস্থিতি কামনা করছি।”

এবারের পিকনিককে ঘিরে অন্যান্যবারের চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পড়েছে, এমনটি লক্ষ্য করা গেল ইভেন্ট পেইজে রেসপন্স দেখে। রেল পরিবার অপেক্ষা করছে আনন্দময় সেই ৪৮ ঘণ্টার জন্য।

এসবিসি/এসবি