জেলেদের হয়রানি বন্ধে মানববন্ধন

জেলেদের হয়রানি বন্ধে মানববন্ধন

এসবিসি, চাঁদপুর : চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরার কোণাগুল্টি সুতার জালের ফাঁসের সাইজ সরকারি ভাবে নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত জেলেদের হয়রানি বন্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে মৎস্যজীবি সমিতি। আজ সকাল ১১টায় চাঁদপুর শহরের শপথ চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে চাঁদপুর পদ্মা- মেঘনা মৎস্যজীবি সমিতির আহবায়ক আ. মালেক দেওয়ানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শাহআলম মল্লিকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, যুগ্ম-আহবায়ক মানিক দেওয়ান ও তছলিম বেপারী। এ সময় প্রায় শতাধিক জেলে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন শেষে তারা চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ আবদুল হাই’এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে।

স্মারকলিপিতে তারা বলেন, পদ্মা-মেঘনা পাড়ের হাজার হাজার জেলে কট সুতার তৈরী বিভিন্ ফাঁসের কোণাগুল্টি জাল দিয়ে নদীতে ইলিশ ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ভরা মৌসুমের ৪ মাস ও মাঘ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ৩ মাস অর্থাৎ বছরে ৭ মাস নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়। এরমধ্যে ভরা মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় ২১ দিন এবং অভয়াশ্রমের সময় মার্চ-এপ্রিল দুমাস নদীতে সকল প্রকারের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। অর্থাৎ বছরের অধিকাংশ সময় চাঁদপুরের প্রায় ৫০ হাজার জেলে বেকারত্বের অভিশাপে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

যদিও মৎস্য আইনে সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার ফাঁসের জাল বৈধ। কিন্তু সরকারি ভাবে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৮ মাস ৯ ইঞ্চি ও পরবর্তী সময়ে ১০ ইঞ্চি সাইজের ইলিশকে জাটকা হিসেবে ঘোষনা করে তা ধরা নিষিদ্ধ করে। এতে করে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে নদীর তলদেশে গিয়ে মাছের সাইজ মেপে ধরা সম্ভব নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে জেলেরা ১০ ইঞ্চির উপর ইলিশ মাছ ধরার কোণাগুল্টি জালের ফাঁসের সাইজ নির্ধারনের জন্য দাবি জানাচ্ছে। তাই চাঁদপুর পদ্মা- মেঘনায় ইলিশ ধরার কোণাগুল্টি সুতার জালের ফাঁসের সাইজ সরকারি ভাবে নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত অভয়াশ্রমের পূর্বে জেলেদের হয়রানি না করার দাবি জানায় জেলেরা।

এসবিসি/একেএ/কেএ