ফাগুনের আগুনে আজি

ফাগুনের আগুনে আজি

এসবিসি ডেস্ক : আজি দখিন-দুয়ার খোলা,
এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো।
দিব হৃদয়দোলায় দোলা,
এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো॥

আজ সোমবার, ১৪২৩ বঙ্গাব্দের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিন। গাছের নতুন পাতা, শিমুলের ডালে আগুন রাঙা বাসন্তী ফুল জানান দিচ্ছে, ইট কংক্রিটের রাজধানী ঢাকাতেও আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। ঋতুচক্র এখন পঞ্জিকার অনুশাসন মানছে না ঠিকই, কিন্তু বসন্ত লুকিয়ে আসতে পারে না। প্রকৃতি তার নতুন সাজে জানান দেয়, বাতাসে লাগিছে দোলা।

এ বছর শীতের প্রকোপ কম থাকায় হেমন্তেই বসন্তের বাণী সাড়া দিয়েছিল যেন। কিন্তু নিয়ম মেনে আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তকে বরণ করছে নগরবাসী। রবিবার থেকেই সাজ সাজ রবে দিনগুলো আরও ঝকঝকে হতে শুরু করেছে। পহেলা ফাল্গুনের রেশ না কাটতেই বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালবাসা দিবস, আর উৎসবের নগরী যেন ঢাকা।

বসন্ত মানে প্রেম, প্রকৃতির কাব্য। বসন্ত মানে আজি বাতাসে বহিছে প্রেম, হৃদয়ে নেশা। সেই নেশা বাতাসে প্রাণচঞ্চলতার। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া অমর একুশে গ্রন্থমেলা অপেক্ষা করে এই দিনের। এদিন তরুণদের একে অপরকে চিনে নেওয়ার দিন। এদিন অতীতকে স্মরণ করে এগিয়ে চলা বাঙালি জীবনের পরতে পরতে থাকা আন্দোলনগুলোকে ধারণের দিন। বসন্তের আগমন ও বরণের মধ্য দিয়ে ১৯৫২ সালের সেই ফাল্গুন মনে পড়ে, যেদিন ভাষার লড়াইয়ে তরুণেরা প্রাণ দিয়েছিল এই বিশ্বাসে, একদিন রক্ততিলক আর ললাটের সূর্যদেবতা শাসকের গুলিকে হেয় করে ছিনিয়ে নেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই বসন্তেই কয়েক দশক আগে, বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দিশা পেয়েছিল। এই বসন্তেই স্বৈরাচারের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষার অধিকারের লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছিল দিপালী কাঞ্চনরা। এই বসন্তেই কয়েক বছর আগে, যু্দ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে স্ফুলিঙ্গ গণজাগরণ।

রাজনৈতিক জয় পরাজয়ের বসন্ত যেন ব্যক্তি সম্পর্কের দোলাচলেও সমান পারদর্শী। কেবল বসন্তে বয়ে যায় সেই বাতাস, যার দমকায় সম্পর্কের সূতোগুলো নতুনভাবে সাজে, সম্পর্কের সুতো টান টান হয়ে ওঠে। আর এসময় সেই অনুভূতিগুলোকে আরেকটু তরতাজা করতে ফুলই যেন একমাত্র অনুষঙ্গ। এ সময় প্রকৃতি নিজেকে সাজায় হাজারও ফুলেল সমারোহে, তেমনই বসন্তে প্রাণ সাজে লাল হলুদ ফুলের ছোঁয়ায়। মেয়ের খোঁপায়, ছেলের গলায়, মায়ের হাতে ফুল দিয়ে বরণ হয় এই মাসের প্রথম দিন, যা তাকে বাংলা নতুন বছরের দিকে টেনে নিয়ে যেতে আসে।

ফাগুনের প্রথম দিনে রাজধানীর রাজপথে রাজ করছে বাসন্তী রঙের শাড়ি। সঙ্গে গাঢ় রঙের আধিক্যও আছে বছর কয়েক ধরে। বাসন্তী, লাল, হলুদ আর সবুজে রঙিন হয়ে উঠবে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, একুশের গ্রন্থমেলা সহ খোলা ময়দান। অসাম্প্রদায়িক উৎসবের রং বুঝি এমনই কড়া। দিনটি উপলক্ষে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বরাবরের মতো এবারও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলার পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজন করা হয়েছে ফাগুন উৎসবের।

বাঙালির জীবনে রঙ লেগে থাকুক সামনের দিনগুলোতে। ফুলের এই তাজা রঙে ভরে উঠুক আগামী। এই তীব্র উপস্থিতি নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে স্বমহিমায়। আহা আজি এ বসন্তে কত ফুল ফোটে, কত পাখি ডাকে বলে প্রকৃতির শোভা তুলে ধরেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই গানকে অনেকটাই পিছে ফেলে এখনকার বসন্ত শুরু হয়, আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা কারা যে ডাকিল পিছে, বসন্ত এসে গেছে কিংবা বসন্ত বাতাসে সই গো, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে, সই গো বসন্ত বাতাসে গানের সুরে।

এসবিসি/কেএ