গবাদি পশুপালনে ব্যাংক ঋণ

গবাদি পশুপালনে ব্যাংক ঋণ

এসবিসি ডেস্ক : খুব ভালো একটি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার এখন সব গবাদি পশু পালনের জন্য ব্যাঙ্ক ঋণ দেয়ার কথা ভাবছে। বৃহস্পতিবার  এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গাভী পালনে আমরা যদি ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে পারি তাহলে ভেড়া, ছাগল এবং মহিষ এগুলিতে দিতে পারবো না কেন? দিলে মানুষ আরো উৎসাহিত হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠান ছিল কটন ও জুট সিস্টেমে ভেড়ার পশম মিশিয়ে তৈরি সুতায় বস্ত্রসামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর উপলক্ষে। মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইসস্টিটিউট (বিএলআরআই) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) এই অনুষ্ঠানে মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী সায়েদুল হক, প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হক এবং বিএলআরআই মহাপরিচালক তালুকদার নুরুন নাহার বক্তৃতা করেন। বাসস বাংলা

ভেড়ার পশম, পাট ও সুতার মিশ্রনে তৈরি কম্বল, শাল, পাপোস, জায়নামাজসহ অন্যান্য গৃহস্থলী সামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসব পণ্য তৈরির জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে এগুলো বাজারজাতকরণের নির্দেশ দেন। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসময় শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে শুধু উৎপাদন করলেইতো হবে না। সেগুলি যদি সাথে সাথে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা যদি না করে দেই তাহলে কিন্তু কোনটাই টিকবে না। স্থায়ী হবে না। আমাদের কিন্তু গরু ও ছাগল কোরবানী দেওয়ারই রেওয়াজটা আছে। এখনো ভেড়া কোরবানীর ব্যাপারে কোন আগ্রহ কারো নেই, দেয়ও না। এগুলো আস্তে আস্তে উৎসাহিত করা যায়’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ছাগল,ভেড়া এবং মহিষ লালন পালনকারিদেরকে নিম্ন সুদে এই ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর সংগেও কথা বলবেন। উল্লেখ্য, দেশে প্রতিপালিত ভেড়ার সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ। এসব ভেড়া থেকে প্রতিবছর ৩৪০০ মেট্রিক টন উল উৎপাদন হয়। কিন্তু কারিগরি জ্ঞানের অভাবে এগুলোর যথাযথ অর্থনৈতিক ব্যবহার হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধুর সময় সমবায়ের ভিত্তিতে মিল্ক ভিটা তৈরির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সমবায় ভিত্তিতে করলে তারা বাজারজাতকরণের সুবিধা পাবে। যদি আমরা কো-অপারেটিভের মাধ্যমে দিতে পারি তাহলে সেটার বাজারজাতকরণের সুবিধাটাও তারা পাবে। কাজেই আমি মনে করি ওভাবে আমাদের একটা উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। তাতে মানুষ আরো উৎসাহিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধাগুলো যথাযথ ব্যবহারে সক্ষম হলে এদেশে আর কোন মানুষ দরিদ্র থাকবে না।

এসবিসি/এসবি