আরও ৪ লাশ উদ্ধার

আরও ৪ লাশ উদ্ধার

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ায় সাগরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় আরও চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ ভোর থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী সৈকতের পাথুয়ারটেক এলাকার সাগর থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল। এদের মধ্যে ৩ জন শিশু ও ১ জন নারী রয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে ঘটনায় ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হল। উদ্ধার ২৭ জনের মধ্যে ৯ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে নৌকাডুবির ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল। এদের মধ্যে ৯ জন শিশু ও ৭ জন নারী ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে ইনানী সৈকতের পাথুয়ারটেক এলাকার সাগরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। আজ সকাল পর্যন্ত ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “ নৌকা ডুবির সময় সাগরে দমকা হাওয়া এবং ভাটার টান ছিল। এতে ইনানীর পাথুরে সৈকতের পাথুয়ারটেক এলাকার সাগরে নৌকাটি উল্টে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। নৌকাটিতে শিশুসহ ৮০ জন নারী-পুরুষ ছিল। এ ঘটনায় নিখোঁজদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া এবং সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের নজরদারী রয়েছে।”

ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার বুচিডং থানার মইডং এলাকার আব্দুর শুক্কুরের ছেলে আব্দুস সালাম বলেন, ”নৌকাডুবিতে আমার স্ত্রী, ১ ছেলে, মা, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান এবং বোন ও সন্তানসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।মিয়ানমারে আমাদের গ্রামে সেনাবাহিনী হামলা চালানোর পর ৩ দিন পর্যন্ত পাহাড়ী দুর্গম এলাকা পার হয়ে বুধবার রাত ৯ টার দিকে নৌকায় রওনা দিই। নৌকাটিতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৮০ জন ছিলাম। এদের অধিকাংশই শিশু। বৃহস্পতিবার বিকালে নৌকাটি সাগরে দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে। এতে নৌকার মাঝি দিক হারিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে ইনানীর সৈকতের পাথুয়ারটেক এলাকার সাগরে উল্টে যায়।”

আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, নৌকার মাঝির সঙ্গে কথা ছিল আমাদের ২ পরিববারের ১৪ জনকে নিয়ে রওনা দেবে। কিন্তু আমাদের উঠানোর পর বিভিন্ন স্থান থেকে ৬৬ জন লোক উঠায়। নৌকাটি বাংলাদেশের উদ্দ্যেশে রওনা দেয়ার পর কিছুদূর সাগরে আসলে মালামাল ভর্তি বস্তাগুলো ফেলে দেয়।

এসবিসি/এসএএম/এসবি