চাঁদপুর-৪ আসনে নমিনেশন চান ডা. সাগর

চাঁদপুর-৪ আসনে নমিনেশন চান ডা. সাগর

সালেহ্ বিপ্লব/আহমেদ শাহেদ : লেখাপড়া শেষে গ্রামে গিয়ে কাজ করা,শুনতে যতোটা মহান ও আদর্শিক; বাস্তবতা তার ধারেকাছেও না। গ্রামে পোস্টিং হলে দশকূলে যার কেউ নেই, তিনিও একট মামা-কাকা খুঁজে বদলির ফিকির খোঁজেন। ব্যতিক্রম বাদে এটা বাংলাদেশের স্বাভাবিক চিত্র। সবার নজর রাজধানীতে, নিদেনপক্ষে বিভাগ বা জেলা সদরে একটা চেয়ার পাওয়াই ক্যারিয়ারের প্রধান লক্ষ্য। সেখানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করে জেলা শহর চাঁদপুরে চলে এসেছেন হারুণ অর রশীদ সাগর। ডাক্তার সাগর নামেই তিনি পরিচিত। ২০০৩ সাল থেকে তিনি চাঁদপুরেই প্র্যাকটিস করছেন, জেলা সদরের পাশাাশি নিজ উপজেলা ফরিদগঞ্জে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি। বিষয়টা আর দশজনের সাথে ঠিক মেলে না, যে কারোই কৌতুহল জাগবে। কৌতুহলী আমরাও, যাবো যাচ্ছি করে করে বেশ ক’দিন পার হয়ে গেলো। অবশেষে ব্যাট ও বলের সংযোগ ঘটলো, কাজের ফাঁকে একটা আড্ডার শিডিউল মেলানো গেলো। জেলা সদরের বেলভিউ হাসপাতালে তার চেম্বার, রোগীর ভিড় প্রচুর। লাঞ্চ আওয়ারের আগে আগে আমরা বসে পড়লাম। দু’একজন রোগী চলে এলে অবশ্যই দেখে দেবেন, আমরা দু’পক্ষই এতে একমত। গরম কফির সাথে আমাদের আড্ডা শুরু। আর শুরুতেই তার অসাধারণ বাচনভঙ্গী নজর কাড়লো। গুছিয়ে বলেন, স্পষ্ট উচ্চারণে বলেন। গলায় একটা তেজী ভাবও সতেজে বিদ্যমান। কারণটা সোজা। ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল ফসল ডাক্তার সাগর, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বাগানে ফোটা একটি রক্তিম গোলাপ। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভিপি ছিলেন, তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব চমেক ক্যাম্পাসে মুজিবাদর্শের দুর্গম দুর্গ গড়ে উঠেছিলো সেই সময়ে। ক্যাম্পাসের সবাই জানতেন, ছাত্রলীগের মিছিল বের হবে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে। মিছিলে স্লোগান হবে ছাত্রনেতা সাগরের গলার সাথে তাল মিলিয়ে। নিজেও রাজনীতির মানুষ হওয়ার কারণে প্রিয় চট্টগ্রামের বিভিন্ন আড্ডায় ভিপি সাগরের কথা শুনেছি। খুব একটা না জানলেও নামে তাকে চিনতাম। তিনি চিনতেন চ্যানেল আইর সুবাদে। সুতরাং অপরিচয়ের প্রাথমিক যে জড়তা থাকে, তা মিলিয়ে যেতে বোধহয় কয়েক সেকেন্ড লাগলো। জানতে চাইলাম, মফস্বলে কেন?
অনেকদিন এই প্রশ্ন করেননি কেউ, তাই বলে জানাতে দ্বিধা নেই তার। ২৫তম বিসিএস-এ ৭ জন ডাক্তার বাদ পড়েছিলেন, মূল কারণ ছিলো রাজনৈতিক। সেটা বিএনপির গত আমল, এটুকু থেকেই বুঝে নিতে বললেন ডাক্তার সাগর। বুঝে নিলাম, সাথে সাথে স্মৃতির জানালায় উঁকি দিয়ে নিলাম। আমাদের যতোটা জানা আছে, সেই বাদ পড়া সাতজনকে বিকল্প সুযোগ দেয়া হয়েছিলো। ডাক্তার সাগর বাদে বাকি সবাই ভালো চাকুরি জুটিয়ে নিয়েছিলেন। সে সুযোগ পেয়েও তিনি নেননি, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার অফার ফিরিয়ে দেন। ছাত্ররাজনীতি করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন; নিজের জেলায় প্র্যাকটিসের পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-সিভিল সার্ভেন্টরা রাজনীতিতে আসেন। তবে পেশাগত জীবনের শুরুতেই নয়, রিটায়ারমেন্টের পর বড়ো দু’দলের কোন একটিতে যোগ দেন। নির্বাচন করেন। এই ধারা থেকেও নিজেকে বের করে এনেছেন ডাক্তার সাগর। এক বেলা জেলা সদরের চেম্বারে রোগী দেখেন। সংসার চালানোর পয়সা জোগাড় করেন, তাও সব রোগীর কাছ থেকে ফি নেন না। এরপর চলে যান ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। রোগী দেখেন, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করেন। সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। এটাই তার নিত্যকার রুটিন। চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক তিনি, বিএমএ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। ফরিদগঞ্জের যে কোন সামাজিক উদ্যোগে তাকে দেখা যায়, দেখা যায় অসহায়-দরিদ্র মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের ধারণা ছিলো, তিনি বোধহয় ভবিষ্যতে এলাকা থেকে নির্বাচন করবেন। এটুকু ধারণা থাকলেও স্পষ্ট ছিলো না তিনি আসলে কোন লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন? উপজেলা চেয়ারম্যান নাকি সংসদ সদস্য, এই বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। সুতরাং সরাসরিই প্রশ্ন করা হলো। এসব আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরের মাঝে ব্যক্তিগত,পারিবারিক অনেক কথা হয়েছে। অনেক বিষয় জানা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যদিয়ে ডাক্তার সাগরকে আরেকটু ভালোভাবে বোঝার সুযোগ আমরা পেয়েছি। তিনিও জেনেছেন আমাদের কাছে আমাদের অনেক বিষয়ে। ডিজিটাল মানুষ তিনি, ফেসবুকে সক্রিয়। অনলাইন নিউজপোর্টালের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হলো। একজন রোগী এসেছেন রিপোর্ট দেখাতে, আমরা কয়েক মিনিটের বিরতিতে গেলাম। আবার এলো ধূমায়িত কফির মগ, সাথে এক্সএল সাইজের সিঙ্গারা। রোগী বিদায় নিতেই পেন্ডিং প্রশ্নের জবাব দিতে শুরু করলেন তিনি।
‘ইয়েস, ইউ আর ভেরি মাচ রাইট। আমি চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই। দল মনোনয়ন দিলে আমি এই আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারবো, ইনশাল্লাহ।’
গত নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক ভূঁইয়া, তখন তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালে ফরিদগঞ্জের এমপি ছিলেন বিএনপির লায়ন হারুনুর রশীদ। তার কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী, দেশের যশস্বী সাংবাদিক শফিকুর রহমান, যিনি বর্তমানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি। চাঁদপুরের নির্বাচনী রাজনীতিতে বরাবরই বিএনপি’র একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফরিদগঞ্জে সেই দাপট ধরে রেখেছিলো বিএনপি। ‘সুতরাং এমন বৈরি পরিবেশে আপনি কী করে জয়ের আশা করেন?’, আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন তার কাছে।
উত্তর দেয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড ভাবলেন ডাক্তার সাগর, তারপর দ্বিধাহীন কণ্ঠে স্বীকার করলেন, দলীয় ভোটের যে হিসেব নিকেশ; তাতে করে ফরিদগঞ্জ থেকে নৌকাকে পাস করিয়ে আনা একটু কঠিন কাজ বটে। কিছু ভোটে বিএনপি সাধারণত এগিয়ে থাকে। এই আসন থেকে জয়ী হতে হলে বাড়তি কিছু যোগ্যতা লাগবেই, আর তার প্রধানতম হলো ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা।’ একটু থামলেন, তারপর যোগ করলেন, ‘আপামর জনতার ভালোবাসা অর্জন করতে পারলে প্রতিপক্ষ দল বিজয় ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। আর মানুষের সেই ভালোবাসা আমি কিছুটা হলেও অর্জন করেছি।’
আমরা শুনছি, ডাক্তার সাগর বলে যাচ্ছেন তার মনোমুগ্ধকর বাচনভঙ্গিতে।
‘২০০৮ সালের নির্বাচনে শফিক ভাই পরাজিত হলেন। কেমন একটা শূণ্যতার আভাস ফরিদগঞ্জের আওয়ামী পরিবারে। আমার মাথায় একটা ভাবনা এলো। দলীয় ভোট কী করে বাড়ানো যায়? তো পথ একটাই। দলের বাইরে একটা ভোট ব্যাংক সৃষ্টি করতে হবে। যেহেতু আমি চিকিৎসক, আমার সেই সুযোগ আছে। আমার পেশাকে অবলম্বন করে ফরিদগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে গেলাম। চিকিৎসকরা রোগীদের ভালোবাসা পেয়েই থাকেন, বিশেষ করে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেন যারা, তারা মানুষের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন। অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর আমি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করে যাচ্ছি। চিকিৎসক হিসেবে আমি আমার এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। মানবতার একজন সেবক হিসেবেও আপামর জনতার আমাকে ভালোবাসে, ভক্তি করে। আমার এই জনসম্পৃক্ততা নিঃসন্দেহে আমার দলের জন্যে ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। আমি ঠিক বলছি কি না, আপনারা আপনারদের মতো যাচাই করে দেখতে পারেন।’
আমরা একমত হলাম এই তরুণ নেতার সাথে। মানতেই হবে, ফরিদগঞ্জের মানুষ যে কোন অসুখেই তার কাছে প্রথমে আসে। সে হার্টের সমস্যা হোক কিংবা গাইনির কোন সমস্যা হোক না কেন; প্রথমে তার কাছে। তিনি রেগুলার চেক আপটা করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে দেন। এই বিষয়টা আমরা স্বচক্ষেই দেখলাম, স্বকর্ণে শুনলাম। কথা সত্য।
বুঝে গেলাম, মানবদরদী ও গরীবের বন্ধু হিসেবে তরুণ পেশাজীবী বেশ বেশ জনপ্রিয় ফরিদগঞ্জে। ‘তাই বলে দুম করে নমিনেশন চেয়ে বসবেন, এতোটাই কনফিডেন্ট আপনি?’ দুম করে এই প্রশ্নটা ছুঁড়ে বসলাম। সাথে যোগ করলাম, ‘কমপক্ষে দু’জন জায়ান্ট প্রার্থী আছেন আওয়ামী লীগে। এ অবস্থায় নমিনেশন পাবেন বলে আশা করছেন?’
উত্তর দেবার আগে দরাজ গলায় হাসি শোনালেন এক সময়কার তুখোড় ছাত্রনেতা। নমিনেশন চাইবার অধিকার আমার দল আমাকে দিয়েছে। আপনি অনেক বছর সাংবাদিকতায় আছেন, আপনারও একটা অসাধারণ আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছে। তা না হলে লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল গড়ে তোলার রিস্ক নিতেন না। এই ফাঁকে বলে রাখি, পেশাদার সাংবাদিকদের জন্যে এই আত্মকর্মসংস্থানের অনন্য সুযোগ আমরা আওয়ামী লীগই তৈরি করে দিয়েছি। আমাদের সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী আপনাদের অনলাইন নিউজ পোর্টালের পথ উন্মুক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিশনকে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছেন তার আইটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে অক্লান্ত পরিশ্রম যাচ্ছে সরকারের আইসিটি বিভাগ। আজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ ডিজিটাল হয়েছেন, হচ্ছেন। ফেসবুক টুইটারে তার প্রমাণ পাবেন আপনি। ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রগুলোতে গেলে আপনি দেখবেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ স্বপ্ন নয়। দিনের সূর্য, রাতের চাঁদতারার মতোই জ্বলজ্বলে বাস্তব। এটা সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনায়, যা বাস্তবায়ন করতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী সদাসচেষ্ট। আর আমাদের প্রাণের সংগঠন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর এই আওয়ামী লীগ দেশে এই অনন্য উন্নয়ন করতে পেরেছে মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং কমিটমেন্ট থেকে।’
একটু বিরতি, কফির কাপে চুমুক। ‘আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনায় যে সাফল্য অর্জন করেছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ জবাবদিহিতা। দেশের মানুষের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা আছে, তেমনি দলের অভ্যন্তরেও গণতান্ত্রিক চর্চা আছে।’ কেউ যদি বাস্তবতার নিরীখে নিজেকে দলের নমিনেশন পাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করে, জননেত্রী শেখ হাসিনা তা এক কথায় নাকচ করে দেন না। তৃণমূল এবং জেলা নেতাদের মতামত শুনে সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রেক্ষাপটে আমি আমার প্রার্থিতার কথা আপনাদের অনলাইনের মাধ্যমেই জানালাম। নমিনেশন পেলে আমি বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ, ফরিদগঞ্জের মানুষের প্রতি এই বিশ্বাস আমার আছে। তারপরও দল যদি আর কাউকে নমিনেশন দেয়, তাতে বিন্দুমাত্র দ্বিমত আমার থাকবে না। বরাবরের মতোই সর্বশক্তি নিয়ে দলের প্রার্থীর জন্যে কাজ করবো।’
ছাত্ররাজনীতির কঠিন অধ্যায় পার হয়ে এসেছেন তারকার মর্যাদায়, পেশাজীবী নেতা হিসেবেও নির্বাচনী বৈতরিণী পার হয়েছেন কৃতীত্বের সাথে। সঙ্গতকারণেই অনেক স্মার্ট এই তরুণ রাজনীতিবিদ, কারো নাম উল্লেখ করানো গেলো না তাকে দিয়ে। সিনিয়র দু’জন প্রার্থী আছেন ফরিদগঞ্জ আসনে, ফরমাল সাক্ষাতকারে কারো সম্পর্কে কোন মন্তব্য করলেন না। শেষে ভিন্নপথ ধরলাম আমরা। বললাম, আপনি বছর তিনেক আগে চল্লিশ পার করেছেন। আর যে দু’জন জায়ান্ট প্রার্থী আছেন, তাদের বয়স সত্তুর পার হয়ে গেছে। প্রবীণদের সাথে টেক্কা দিয়ে আপনি নমিনেশন পাওয়ার প্রত্যাশা করেন কীভাবে? তাদের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায় না?’
‘আগেই বলেছি, আমার দল আওয়ামী লীগ সব নেতাকর্মীকে নিজ নিজ প্রত্যাশা ব্যক্ত করার অধিকার দেয়। সুতরাং অনুরাগ বিরাগের কোন প্রশ্ন নেই। নমিনেশন যিনি পাবেন, তার জন্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন, এটাই আমাদের রাজনীতি।’
এমন আলাপী লোকের সাথে ননস্টপ আড্ডা দেয়া যায়, কিন্তু দু’জন পেশাজীবীর পক্ষে ওয়ার্কিং আওয়ারে এই মজমা দীর্ঘায়িত করা অসম্ভবই বটে। শেষ করার আগে আরো একবার প্রশ্ন, নমিনেশন কেন চাইছেন, ডাক্তার সাগর?’
কিছু সময় নিশ্চুপ তিনি, গুছিয়ে কথাবলা মানুষটি সম্ভবত আরো গুছিয়ে কিছু বলার প্রস্তুতি নিলেন। তার বামদিকে খোলা জানালায় চাঁদপুরের আকাশ ভীষণ রকম উজ্জ্বল, সেই ঔজ্জ্বল্যকেই যেন নিজের মাঝে নিয়ে এলেন ডাক্তার হারুণ অর রশীদ সাগর। আত্মবিশ্বাস ও কমিটমেন্ট মিলে বলিষ্ঠ কিন্তু ধীর তার প্রক্ষেপন। বললেন, ‘দলকে আমার কিছু দেয়ার আছে। দল আমাকে অনেক দিয়েছে। আমিও আমার সীমিত সাধ্যে লড়াই সংগ্রামে সক্রিয় সব সময়। ত্যাগ করতে শিখেছি, এখনো শরীরে বহন করছি প্রতিপক্ষের অত্যাচারের চিহ্ন। সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার মধ্যদিয়ে দলকে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন থেকেই আমি মানুষের মাঝে মিশে গিয়েছি। ফরিদগঞ্জের গণমানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আমাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন পেলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেব, ইনশাল্লাহ। ’

এসবিসি/এএস/এসবি