৮৬টি ধানের জাতের মধ্যে কৃষকের পছন্দ ২টি

৮৬টি ধানের জাতের মধ্যে কৃষকের পছন্দ ২টি

এসবিসি ডেস্ক : গত সাড়ে চার দশকে ধানের উচ্চ ফলনশীল ৮৬টি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র-ব্রি। তবে, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯-এই দুটি বোরো জাত ছাড়া জনপ্রিয় হয়নি আর একটিও। উন্নত জাত মাঠে চাষ না হওয়ার পেছনে, এসব বীজ সম্পর্কে প্রচার ও পরিকল্পনার অভাবকে দায়ী করছেন কৃষিবিদরা।
ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট- ইফপ্রি বলছে, বীজ ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে গত এক দশকে ফলনের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে অর্ধেকে।

খাদ্যের চাহিদা-যোগানের ভারসাম্য রাখতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র-ব্রি’ উদ্ভাবিত ৮৬টি উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে বোরো জাত ৩৭টি।

অথচ বোরো মৌসুমে ৭০শতাংশ জমিতে চাষ হচ্ছে ২৩বছরের পুরনো ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাত দু’টি। এরচেয়ে উন্নত জাত উদ্ভাবিত হলেও চাষে আগ্রহী নন কৃষকরা।

সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া ধানের জাত

ধানের জাত মোট জমির পরিমাণ

ব্রি-২৮ ৪৪.৮ শতাংশ

ব্রি-২৯ ২৫.৩ শতাংশ

কালিজিরা ৬শতাংশ

হিরা ৫ শতাংশ

তেজ ১.১ শতাংশ

উন্নত জাতের ব্যবহার না বাড়ায় ধান উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হয়ে পড়েছে নিম্নমুখী। ইফপ্রি বলছে ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছর থেকে ২০০৫-০৬ অর্থবছর পর্যন্ত গড়ে ধানের ফলন প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে গত ১০ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক সাত শতাংশে।

ইফপ্রি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. আকতার আহমেদ বলেন, ‘২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কৃষিতে গ্রোথ ছিলো ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ছিলো। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালে সেটা হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।’

কৃষিবিদরা বলছেন, বীজ উৎপাদনে বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হাতে গোনা। তাই উন্নত বীজের জন্য কৃষকরা বিএডিসি’র উপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘ব্রি-২৮ এর পরিবর্তে আমরা ৩৬ বের করলাম যেটা ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারে কিন্তু কৃষকরা সেটা পছন্দ করলো না। অনেক ভালো জাত আছে, সেগুলো নিয়ে যেতে হবে। বিএডিসিকে সেটা শুনতে হবে। কিন্তু বিএডিসি যদি বলে, আপনারা আগে জনপ্রিয় করেন তারপরে আমরা নিয়ে যাবো।’

গেল পাঁচ অর্থবছরে দেশে বীজের চাহিদা ২ লাখ ৩৫ হাজার টন থেকে বেঁড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ মেট্রিক টনে। অথচ এসময়ে প্রধান বীজ সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএডিসি’র বীজ উৎপাদন ও বিতরণ কোনটিই বাড়ে নি।

বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘বিএডিসি কেনো এই নতুন জাতগুলো সম্প্রসারণ করতে পারে না? কারণ, এটা বিক্রি করেই বিএডিসির যাবতীয় খরচ মেটাতে হয়। সেক্ষেত্রে সে এই ঝুঁকি নেবে না যে বীজের বাজারে চাহিদা নেই সেটা উৎপাদনের।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, প্রতিবছর কৃষি জমির পরিমাণ কমছে এক শতাংশ হারে। এ অবস্থায় ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত বীজ ব্যবহারের বিকল্প নেই। এজন্য বিএডিসি’র সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বীজ উৎপাদন ও বিতরণে বেসরকারি খাতকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করার পরামর্শ কৃষিবিদদের।

 

এসবিসি/ওফ