রংপুরে ৭৩ হাজার টন খাদ্য উৎপাদন বাড়বে

রংপুরে ৭৩ হাজার টন খাদ্য উৎপাদন বাড়বে

এসবিসি ডেস্ক : রংপুর অঞ্চলে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৭২ হাজার আট শ ৮৭ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন ও প্রয়োজনীয় সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে ১৬ হাজার এক শ ৯৭ হেক্টর জমি ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচের আওতায় এনে এ অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন করা হবে। এ জন্য পরিকল্পনা কমিশনে ‘রংপুর অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক শ ৪০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী একনেক বৈঠকেই প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পটি রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলার ২৮টি উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। অপেক্ষাকৃত শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চতাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভূ-উপরিস্থ পানির স্বল্পতা প্রকল্প এলাকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রকল্প এলাকার মধ্য দিয়ে অনেক নদী, শাখা-নদী প্রবাহিত হয়েছে, যেখানে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস রয়েছে। তা ছাড়া, ওই সব এলাকায় অসংখ্য খাল-নালা রয়েছে এবং খালগুলো প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। অসংখ্য নদী, খাল, নালা সমৃদ্ধ এ জেলাগুলোকে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থাকা সত্ত্বেও পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ কাজ ব্যবহারে কাঙ্খিত মাত্রায় পৌঁছেনি তাই আবাদযোগ্য অনেক জমি পতিত রয়েছে। প্রকল্প এলাকার মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় পাঁচ দশমিক ৯১ লাখ হেক্টর। তার মধ্যে প্রায় চার দশমিক ৮৩ লাখ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় এক দশমিক আট লাখ হেক্টর জমি সেচ বহির্ভূত রয়েছে। খাল, নালা পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সেচ বহির্ভূত জমির মধ্য থেকে ১৬ হাজার এক শ ৯৭ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় ইতোপূর্বে ২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালের জুলাই হতে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত উন্নত ক্ষুদ্র সেচ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মঙ্গাপীড়িত এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ৩৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালের জুলাই হতে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বৃহত্তর রংপুর জেলার আধুনিক ক্ষুদ্র সেচ সম্প্রসারণ শীর্ষক দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এ দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এনে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিকটন খাদ্য শস্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ প্রকল্পটিও হাতে নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, ২০০ কিলোমিটার খাল নালা পুনঃখনন, ১১৮টি পানি সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ, ১০০টি বিদ্যুৎ চালিত লো-লিফট পাম্প, ১৮০টি বিদ্যুৎ চালিত সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন, ৫০টি সৌরশক্তি চালিত লো-লিফট পাম্প, ৩৩০টি ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা নির্মাণ, ১৮৭টি ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা সম্প্রসারণ, ১৬০টি বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, ৪৫ হাজারটি বৃক্ষরোপণ এবং ১৫০টি পাম্প হাউজ নির্মাণ।

যে সব উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হচ্ছে, রংপুর জেলার সদর, কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ এবং তারাগঞ্জ উপজেলা। নীলফামারীর সদর, সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা, ডোমার ও ডিমলা উপজেলা। লালমনিরহাটের সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা। কুড়িগ্রামের সদর, ফুলবাড়ী, রাজারহাট, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজীবপুর, নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা।

এ বিষয়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী বলেন, ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। যার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশগত উন্নয়ন ও জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে।

 

এসবিসি/ওফ