রাশিয়াকে দুষ্টুমি ছাড়তে হবে

রাশিয়াকে দুষ্টুমি ছাড়তে হবে
সালেহ্ বিপ্লব, বিবিসি অবলম্বনে : গত আসরে নিজেদের মাটিতেই ডোপিং কেলেংকারি করে দুর্নাম কামিয়েছেন রাশিয়ার অ্যাথলেটরা। সেই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত গত চার বছরে বলতে গেলে কিছুই হয়নি। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সিদ্ধান্তে গত ডিসেম্বরে অলিম্পিক থেকে দেশ হিসেবে রাশিয়ার নাম কাটা গেছে। অবশ্য রাশিয়ার ওপর আইওসি নিষেধাজ্ঞা দিলেও এবারের গেমস থেকে একদম বাদ করে দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিবিড় তত্ত্বাবধানে থেকে ১৬৮ জন অ্যাথলেট পিয়াংইয়াং ২০১৮-তে অংশ নিতে পেরেছেন। অংশ নিয়ে আবার ধরা পড়লেন দু’জন। সে ঘটনা ঘটার আগেই রুশ অ্যাথলেটরা মানসিকভাবেই পিছিয়ে পড়েন গেমসের উদ্বোধনী দিনে। ৩০ দেশের তালিকায় নাম উঠেছে ২৯ দেশের। অংশগ্রহণকারি অপর দলটির নাম অলিম্পিক অ্যাথলেটস ফ্রম রাশিয়া। দেশের নাম নেই, এখানেই শেষ হয়নি রাশিয়ার দক্ষ মেধাবী অ্যাথলেটদের লজ্জা-বেদনার পালা। আইওসি’র নির্দেশ, মাঠে রাশিয়ার পতাকা থাকবে না। উদ্বোধনী প্যারেডে রুশ ক্রীড়াবিদরা মার্চপাস্ট করেছেন অলিম্পিক পতাকা নিয়ে, সমাপনীতেও তাই। ডোপিং কেলেংকারির সাজা। তাও কি শুদ্ধ হতে পারলো রুশরা? এই আসরেও ধরা পড়লেন দু’জন। রুশ কার্লার আলেকজান্ডার ক্রুসেনিতস্কি মিক্সড কার্লিং ইভেটে ব্রোঞ্জ পেয়েও ধরে রাখতে পারেননি। ডোপ টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট আসায় তার পদক কেড়ে নেয়া হয়। এর দুদিন পর গেলো শনিবার ধরা পড়লেন নাজেদদা সের্গেইভা। ৩০ বছর বযসী এই প্রমীলা ববস্লেজারও নিষিদ্ধ হলেন। এই দুজনে নিষিদ্ধ ওষুধের নোংরা খেলা থেকে বিরত থাকতে পারলে সমাপনী অনুষ্ঠানের আগেই রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতো আইওসি। সমাপনী দিনে রাশিয়ার পতাকা উড়তো অলিম্পিক মাঠে, তালিকায় নাম উঠতো দেশ হিসেবে। তা হলো না বলে দুঃখ পেয়েছেন খোদ আইওসি প্রধান। উইন্টার অলিম্পিক ২০১৮’র সমাপনী উৎসবে আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস ব্যাচ বলেন, বিষয়টি হতাশার। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নয়া কেলেংকারির কারণে সমাপনী উৎসবে নিষেধাজ্ঞা তুলতে পারা গেলো না। টমাসের আক্ষেপ মাঠভর্তি অ্যাথলেট ও ক্রীড়ামোদীদের কাছেও বেদনাদায়ক ছিলো নিশ্চয়। বেদনার অনুভবে বর্ণিল স্বস্তি এনে দেয় চোখধাঁধানো আতশবাজি আর আলোর খেলা। সবারই ভালো লেগেছ, যখন আইওিসি চিফ উইন্টার অলিম্পিকের প্রাণখোলা প্রশংসা করেছেন। টমাস বলেছেন, গেমসের জগতে নতুন দিগন্তের পর্দা তুলেছে উইন্টার অলিম্পিক। রুশদের নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন নিয়ে আরো কথা বলেন প্রেসিডেন্ট। ১৬৮ জনের মধ্যে পথভ্রষ্ট মাত্র দু’জন, তার কণ্ঠে এই পজিটিভ সুরও ফুটে ওঠে। তিনি বলছিলেন, দু’জনের বিষয়টি দলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে না। এসবের সঙ্গে রাশিয়ার অলিম্পিক কমিটির কোন সম্পর্ক আছে বলেও জানা যায়নি। তাই ডোপিং না করার শর্তে পরবর্তী আসরে রাশিয়াকে আবার জায়গা দেয়া হবে, আইওসি’র সিদ্ধান্ত জানান টমাস। 
এবারের আসর ছিলো ১৬দিনের। স্বর্ণপদক এসেছে ১০২টি। ৩০ দেশের লড়াইয়ে ৩৯টি পদক নিয়ে এক নম্বরে নরওয়ে। ১৪ স্বর্ণ, ১৪ রৌপ্য ও ১১ ব্রোঞ্জ। ৩১ পদক নিয়ে দ্বিতীয় জার্মানি, স্বর্ণে তারা নরওয়ের সমান। রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ ১০ ও ৭। এরপর কানাডা, ২৯ পদকের মধ্যে ১১টি স্বর্ণ। রৌপ্য ৮ ও ব্রোঞ্জ ১০। স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া ৭ নাম্বারে নাম লিখিয়েছে। পদক ১৯টি। স্বর্ণ ৫, রৌপ্য ৮ ও ব্রোঞ্জ ৪। রুশ অ্যাথলেটরা আছেন ১৩ নাম্বারে। পদক তালিকায় তাদের পরে নাম বসেছে চেক প্রজাতন্ত্রের, তাদের পদক সংখ্যা ৭। এই ১৪ নাম্বার থেকেই পদকের হিসেব সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছে। ২১তম পজিশনে যুগ্মভাবে হাঙ্গেরী ও ইউক্রেন। দু’দেশই একটি করে পদক পেয়েছে তবে তা স্বর্ণের। আবার হাঙ্গেরীর কপালে এই প্রথম জুটলো উইন্টার অলিম্পিকের স্বর্ণ। পুরুষদের ৫ হাজার মিটার রিলে শর্ট ট্র্যাক স্কেটিং-এ সাফল্য পেলো দেশটি। ১৯৮০ সাল থেকে এই সম্মানের জন্য অপেক্ষা ছিলো দেশটির।
অস্ট্রেলিয়াসহ ৮ দেশ স্বর্ণের মুুখ দেখেনি। দু’টি করে ব্রোঞ্জ পেয়ে যুগ্মভাবে ২৬ নাম্বারে আছে নিউজিল্যান্ড ও স্পেন। ২৮ অর্থাৎ সর্বশেষ স্থানে কাজাখাস্তান, লাটভিয়া ও লিচটেন্সটাইন। একটি করে ব্রোঞ্জ নিয়ে তারা উইন্টার অলিম্পিক ২০১৮ শেষ করলো।
 
এতো বড়ো আসরে রেকর্ড তো থাকেই, পিয়াংচেঙ-এও হয়েছে। উইন্টার অলিম্পিকে এবারই প্রথম স্বর্ণ জুটলো হাঙ্গেরীর কপালে। রেকর্ড গড়েছে গ্রেট বৃটেন, গতবারের চেয়ে একটি পদক বেড়েছে। ইনজুরিতে বহুদিন গুটিয়ে থাকা বিলি মরগ্যান এবার বিগ এয়ারে ব্রোঞ্জ জয় করেছেন। তার পদক নিশ্চিত হওূয়ার সাথে সাথেই আনন্দের জোয়ার বয় বৃটিশ শিবিরে। গ্রেট বৃটেনর পক্ষে ৫ম পদকটি জিতে আগের বারের রেকর্ড ভাঙ্গেন।এবার গ্রেট বৃটেনের পতাকাও বহন করেছেন বিলি মরগ্যান।
 
২০২২ সালে চীন মাতাবে শীতের অলিম্পিক। বেইজিং ২০২২। সামার ও উইন্টার, দুই অলিম্পিকই বেইজিং-এ হয়। এই হিসেবে এটি বিশ্বের তৃতীয় শহর। সেই শহরে আর চার বছর পর বসবে উইন্টার অলিম্পিক, যে গেমস দিনে দিনে বর্ণাঢ্য ও সমৃদ্ধ হচ্ছে বিভিন্ন দিক দিয়ে।
 
এসবিসি/এসবি