অপশক্তির বিরুদ্ধে সন্তানদের সচেতন করুন : প্রধানমন্ত্রী

অপশক্তির বিরুদ্ধে সন্তানদের সচেতন করুন : প্রধানমন্ত্রী

এসবিসি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান পুণর্ব্যক্ত করেছেন।  ছেলেমেয়েদের এসব অপশক্তির বিষয়ে সচেতন করতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আজ বঙ্গবন্ধুর ৯৮তম জন্মবার্ষিকীতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় শিশু দিবসের সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন। বাসস বাংলা

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ, ঐতিহাসিক দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে শিশু সমাবেশসহ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন হয় প্রতি বছর।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচির উদ্যোক্তা। সহযোগিতা করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। গোপালগঞ্জের এস এম সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আরাফাত হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জের সোনালী স্বপ্ন একাডেমীর চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়ন্তি সাহা। মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালযের সচিব নাসিমা বেগম, তিনবাহিনী প্রধান, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটির স্মরণে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের নামে একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তাঁর রচিত এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী প্রকাশিত ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ শীর্ষক প্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় শিশু একাডেমির পরিচালক আনজির লিটন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘উঠবো জেগে ছুটবো বেগে’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে একটি বই মেলার উদ্বোধন করেন। ‘আমার ভাবনায় ৭ মার্চ’ শীর্ষক শিশুদের একটি চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এবং কোটালিপাড়ার দু’জন দুঃস্থ মহিলার মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোরদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকে আমাদের শিশু থেকে যুবক শ্রেণী কোথায় যায়, কী করে, কার সঙ্গে মেশে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। যেন কেউ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকাশক্তির সাথে সম্পৃক্ত হতে না পারে। তারা যেন সুস্থ জীবন পায়। আর বাবা-মা, ভাইবোনকে নিয়ে সুখে শান্তিতে কাটাতে পারে তারই পদক্ষেপ নিতে হবে। কোন ছেলে-মেয়ে যেন বিপথে না যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আমি সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া খোকা একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আশা আকাঙ্খার ধারক, বাহক। তার নেতৃত্বে সংগ্রামের পথ ধরেই ১৯৭১ সাল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হয় স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই খোকা পরে পরিচিত হয়ে উঠেন ‘বাংলার বন্ধু’ বা বঙ্গবন্ধু নামে, পান জাতির জনকের উপাধি।‘ জাতির পিতা দেশ শাসনের জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন, স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সেই সময়ের মধ্যেই তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি প্রদেশকে গড়ে তুলে স্বল্প আয়ের দেশে উন্নীত করে যান। তিনি যদি আরেকটু সময় পেতেন তা হলে বাংলাদেশ আরো আগেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারতো।‘

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা শিশুও পথশিশু থাকবে না। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রত্যেকটি শিশু লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে। এ দেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, খাদ্য পাবে, রোগে চিকিৎসা পাবে, সুন্দর জীবন পাবে এবং তাঁরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে।‘

সরকার প্রধান বলেন, ‘আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম, যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশে, যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।‘

২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন হবে, উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এরমধ্যে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমি বিশ্বাস করি আমরা তা করতে পারবো।‘

শিশুদের মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আজকের শিশুরা আগামী দিনের যারা ভবিষ্যত কর্ণধার এ দেশের। তাদের কেউ প্রাইম মিনিস্টার হবে আমার মতো, কেউ বড় বড় চাকরি করবে, কেউ বিভিন্ন জায়গায় যাবে, উন্নত হবে, এ দেশকে গড়ে তুলবে।’

এসবিসি/এসবি