সারাদেশে এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র

সারাদেশে এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র

এসবিসি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার দেশের সব জেলা-উপজেলায় এসএমই পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এসব কেন্দ্র এসএমই শিল্পের প্রসারের জন্য উদ্যোক্তাদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৮ উদ্বোধন করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভাষণ দেননি তিনি। পরিবর্তে তাঁর ভাষণের লিখিত কপি অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হয়। বাসস বাংলা

এসএমই ফাউন্ডেশন এবং এফবিসিসিআই যৌথভাবে পাঁচদিনব্যাপী এই মেলার আয়োজক। সারাদেশ থেকে বাছাই করা ২৬৭টি এসএমই প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে ৬৭ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, শিল্প সচিব মো. আব্দুল্লাহ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন কেএম হাবিবুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী সফল এসএমই উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কারও বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

লিখিত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উদ্যোক্তারা ব্যবসা স্থাপন থেকে শুরু করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা, পরামর্শক সেবা ইত্যাদি এই ওয়ানস্টপ সেন্টার থেকে গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে এসএমই’র গুরুত্ব অপরিসীম, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসএমই সবচেয়ে শ্রমঘন ও স্বল্প পুঁজিনির্ভর খাত। তাই এই খাতের মাধ্যমে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। আমাদের দেশে প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পই ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ‘জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬’ -তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে শিল্প উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে গণ্য করেছে। সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের দ্রুত প্রসার ঘটছে। উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির কারণে প্রতিনিয়ত নারীরা ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।’

বাংলাদেশে কুটির শিল্পের সুদীর্ঘ গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, নকশিকাঁথা এবং সিলেটের শীতল পাটি ইতোমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে। উদ্যোক্তারা এ সকল পণ্যের ব্র্যান্ডিং এর পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারেন।

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পায়নের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পণ্যের বাজার অনুসন্ধান এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সে সব পণ্য উৎপাদন করতে হবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি পণ্যের ওপর রপ্তানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমাদের এখন রপ্তানি বহুমুখীকরণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

এসবিসি/এসবি