প্রফেসর’স ব্রিগেড

প্রফেসর’স ব্রিগেড

জাকির সোহান

আগে যা ঘটেছে : ঘটনার শুরু রহস্য দিয়ে। বারিধারায় নাদিয়াদের সামনের বাসার কাজের মেয়ে টুম্পা অপহৃত। ‘রে’ একটা আন্তর্জাতিক ফেসবুক পেজ, বাংলাদেশ এডমিন নাদিয়া রহমান। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে র‍্যাব খুব দ্রুত উদ্ধার করলো টুম্পাকে। নাদিয়া বুঝেই নিয়েছে, র‍্যাব এবার ‘রে’ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবে। এক্সারসাইজ করতে গিয়ে বিনা নোটিশেই পরিচয় তন্ময়ের সাথে। এখন প্রশ্ন , বুদ্ধিদীপ্ত এই তরুণ কে? অনেক বছর পর দেশে ফেরা মামা প্রফেসর আজহারও ভাগ্নির কাছে জানতে চাইলেন, কে এই তন্ময়?

তৃতীয় পর্বের শুরু

প্রফেসর আজহার সম্পর্কে নাদিয়ার আপন মামা। উনিশশো নব্বই-একানব্বই সালে দেশ ছেড়েছেন।  বহুদিন পর তার দেশে আসা। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। দুনিয়ার নাম করা ইউনিভার্সিটিগুলোয় বক্তৃতা দিয়ে বেড়ান। নাদিয়ার বাবা-মা নাদিয়ার মনোযোগ কখনোই কাড়তে পারেননি। কিন্তু প্রফেসর আজহারই সম্ভবত দুনিয়াতে প্রথম ব্যক্তি; যার প্রতি নাদিয়ার তুমুল আকর্ষণ, আগ্রহ এবং উৎসাহ। নাদিয়া এ লেবেল পরীক্ষা দিয়েছে। দেশের সব ছেলেমেয়ে কোচিং নিয়ে মহাব্যস্ত। কিন্তু নাদিয়ার কোনো সাড়া নেই। সে বেঁচে আছে না মরে গেছে,  ‘নাদিয়া রহমান’ ফেসবুক আইডিতে গেলে বোঝা যাবে। তাছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। বাড়িতে সে একদম চুপচাপ। মা-বাবার সাথে ‘হ্যাঁ-হু’ ছাড়া কথা হয় না। বাবা-মা তাকে কোনো বিষয়ে জোর করে না। আদরের দুলালি। কিন্তু এ লেবেল-এর পর কী করবে তা নিয়ে সবাই চিন্তিত। বাবা-মা’র চাওয়া মেয়ে যাচ্ছেতাই করুক। সবখানে যেনো ভালো থাকে। এটাই তাদের একমাত্র চাওয়া। অন্যকিছু নেই। পয়সার অভাব তাদের নেই। অপরদিকে নাদিয়া কোথায় পড়বে, কী করবে, চাকরি করবে নাকি ব্যবসা করবে- এসব নিয়ে কোনো প্ল্যান নেই তার। সে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছে না। বাবা-মা এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে কিছুই বলতে পারে না। একমাত্র ভাগনি নাদিয়াকে দেখার জন্য মামার বিদেশ থেকে দেশে আসা।

বাড়ির ছাদে উঠে মামা এবং নাদিয়া বাতাস খাচ্ছে।

মামা বললেন, সূর্য ওঠে কেন জানো?

–    আলোর জন্য, তাপের জন্য।

–     আর কী কী?

–     অনেক কিছুই হতে পারে। জানা নেই।

–     তোমার কথাই যদি ধরে নিই; তাহলে দাঁড়াচ্ছে, আলো পাওয়া যাবে দিনের বেলা। তাপও পাওয়া যাবে দিনের বেলা। আলো, তাপ দিয়ে যে সব জিনিস পৃথিবীতে চলে তারা নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়। যেমন ধরো সোলার সিস্টেম। সোলার সিস্টেম দিনের বেলা সূর্য থেকে শক্তি জোগাড় করে রাতে সেই শক্তি বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারে। যদি দিনে সোলার শক্তি জোগাড় করতে না পারে, সোলার সিস্টেম ডিভাইস যতো ভালো আর উন্নত প্রযুক্তির হোক না কেন; রাতের প্রয়োজনে সে কাজে আসবে না। কাজে না আসলে সেই দোষটা সূর্যেরও না, সোলার সিস্টেমেরও না। দোষ হচ্ছে মানুষের, যারা সোলার সিস্টেম ডিভাইসকে কাজে লাগায়নি  দিনের বেলা। এখানে সূর্যকেও দোষ দেওয়া যায়। কিন্তু সূর্য মহাশক্তিমান বলে এসবের ধার ধারে না। তাই তাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই মানুষের। সকল দোষ বর্তায় সোলার ডিভাইসের উপর। সোলার ডিভাইস নিজে কাজ করতে পারে না বলে সেই দোষ এসে বর্তায় সোলারের মালিকের উপর। মালিকের উচিৎ সূর্যের সাথে তাল মিলিয়ে সোলার ডিভাইসকে কাজে লাগানো। ঠিক নয় কি?

মামার দীর্ঘ বক্তৃতার প্রতি উত্তরে নাদিয়া শুধু ‘হুম’ বলল।

–     যা বলেছি বুঝেছ?

–     হুম।

–     শুধু হুম বললে হবে না। মনে রাখতে হবে। পরে এটা নিয়ে কথা হবে। এখন আমরা এই ফুরফুরে বাতাসে ঘুড়ি উড়াবো। ঘুড়ি বানাতে পারো?

–     না।

–     কখনো দেখেছ ঘুড়ি বানানো?

–     হ্যাঁ।

–     কোথায়?

–     ইউটিউবে।

–     গুড। তুমি কাগজপাতি নিয়ে আসো, আমরা ঘুড়ি বানাবো। কখনো উড়িয়েছো?

–     না।

–     জলদি যাও। এখুনি উড়াবো।

–     আজ না মামা। আরেক দিন।

–     তোমাকে সোলারের গল্পটা যে বললাম তুমি কী বুঝলে? কিছুই বুঝো নাই। আজ বাতাস আছে কাল নাও থাকতে পারে। জলদি আনো। বাতাসের সাথে তাল মিলাবো।

নাদিয়া কাগজ, স্কচটেপ, কাঠি, নাটাই, সুতা নিয়ে এলো। মামা ঘুড়ি বানাতে উঠে পড়ে লাগলেন। নাদিয়া ঘুড়ি বানানোরত মামার সাথে সেল্ফি তুলতে লাগল।

–     ভাগনি, সেল্ফি হয়েছে। এখন ঘুড়ি বানানো শিখ। কাজে লাগবে।

–     মামা দাঁড়াও, আগে সেল্ফিগুলো পোস্ট করি।

সেল্ফি পোস্ট শেষ। নাদিয়া ও মামা মিলে ঘুড়ি বানাল। এরপর ঘুড়ি আকাশে দেখে মামা-ভাগনি হেব্বি খুশি।

রাতের বেলা। মামা, মা, বাবাসহ নাদিয়া খাচ্ছে। খেতে খেতে নাদিয়া বলল, দাড়াও মোবাইলটা আনি।

মায়ের কৌতূহল, কল এসেছে?

–     না।

–     তাহলে?

–     মামার সাথে আজ প্রথম ডিনার করছি তার সেল্ফি তো ফেসবুকে দিতে হবে।

নাদিয়া দৌড়ে রুম থেকে মোবাইল এনে পটাপট দুচারটা সেল্ফি তুলে পোস্ট করল।

মি. রহমানের কথা, নাদিয়ার কিন্তু কোনো বন্ধুবান্ধব নাই। সে সবসময় একাই থাকে।

মামা নাদিয়ার কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলেন।

–   এটা ঠিক নয় , মামা।

মার অভিযোগ, কই বার্থডে ছাড়া তো তোর কোনো বন্ধুকেই বাড়িতে দেখি নাই।

–   বলো কি মা! প্রতিদিন আমার অনেক ফ্রেন্ডের সাথে কথা হয়। আমার হাজার হাজার ফ্রেন্ড।

বাবা বোঝাচ্ছেন, এটা তো ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড। এসবের কি ঠিক আছে। আত্মার বন্ধু দরকার। গল্প করার জন্য, হাসি-তামাশা করার জন্য, খেলাধুলার জন্য বন্ধু তো সবসময়ই দরকার। আমাদের ছোট বেলার বন্ধুদের দেখলে আমাদের আত্মা জুড়িয়ে যায়।

–     ফেসবুকে আমারো আছে সে রকম বন্ধু।

 

মামার বক্তব্য, আসলে এযুগের ছেলেমেয়ে ফেসবুকনির্ভর হচ্ছে । এটা কারো দোষ না। আমরা পজিটিভলি দেখতে পারি। আমাদের যুগে এসব ছিল না। এযুগে আছে। তবে, ভাগনি তোমাকে সাবধান হতে হবে। ফেসবুকে অনেকে প্রতারিত হয়। সেটা যেনো প্রাণঘাতি না হয়।

মায়ের প্রশংসার সুর, নাদিয়া তো আবার ফেসবুক সেলিব্রেটি।

মামা বিষয়টা বেশ পজিটিভলি নিলেন, হ্যাঁ, দেখি তো, লাইকের বন্যা বয়ে যায়।

ডিনার শেষে মামা আর নাদিয়া ড্রয়িং রুমে গল্প করছেন।

–     দেখি তোমার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের হালচাল।

নাদিয়া কোনো সংকোচ ছাড়া ল্যাপটপটা মামাকে দিলো। মামা দেখতে লাগলেন, নোটিফিকেশন বক্স ভর্তি নোটিফিকেশন, ইনবক্স ভর্তি ম্যাসেজ।

মামা তাজ্জব, হায়! হায়! ভাগনি, কী অবস্থা!

নাদিয়ার লজ্জায় মাথানিচু। মামা বুঝতে পারলেন নাদিয়া সবার থেকে অনেক অনেক ইনোসেন্ট এবং কিউট একটা মেয়ে। নইলে কোনো জড়তা ছাড়া ফেবু আইডি কি দেখতে দিত?

–   এদের কারো সাথে তোমার দেখা হয়?

স্বাভাবিকভাবে নাদিয়া অসাধারণ কথাটা বলল, একজনের সাথে হয়েছে। নাম তন্ময়।

মামা কি মিন করে জানতে চাইছেন, আসলে সে বুঝতে পারছে না।

– কীভাবে পরিচয়?

–     প্রথমে ফেসবুকে পরিচয়। তারপর একদিন দেখা হয় পার্কের সামনে।

–     কী করে সে?

–     জানি না।

–     জিজ্ঞেস করোনি?

–     না।

–     থাকে কোথায়?

–     জানি না তো।

–     বলো কি? কিছুই জানো না? কীভাবে দেখা হলো?

–     দেখা করতে চাইলো, তাই দেখা করলাম।

 

মা পাশেই বসা। রেগে গিয়ে অভিযোগের সুর, দেখেছ ভাইয়া, চেনা নাই জানা নাই, হুটহাট দেখা করতে চাইল, দেখা করল।

নাদিয়া মায়ের উপর ক্ষুব্ধ হলো। কিন্তু প্রকাশ করল না।

‘এটা কোনো ব্যাপার না।’ মামা নাদিয়াকে বললেন, তাহলে তন্ময় তোমার শেষ বন্ধু যার সাথে শেষ দেখা হয়।

–     জী।

–     তাহলে তন্ময়কে ডাকো কাল। আর তোমার আশেপাশের যারা আছে তাদেরও ডাকো গল্প করি।

–     ওকে।

নাদিয়া মামার কাছে থেকে ল্যাপটপটা নিয়ে রুমে গেল।

মা প্রফেসর আজহারকে বললেন, ও কারো সাথে কোনো কিছু শেয়ার করে না। তোমার সাথে সবই শেয়ার করল।

– তোমাদের টাকার ফিগার নয়, চিন্তার ফিগারটা আপডেট করতে হবে। এখনকার ছেলেমেয়েরা  যতো আপডেট, সে তুলনায় বাবা-মায়েরা অনেক পিছিয়ে। তাই ছেলেমেয়েদের সাথে মনোমালিন্য। তোমরা যদি এখনকার ছেলেমেয়েদের মতো আপডেট হও, তাহলে ওরা শেয়ার করবে। নাদিয়া তো আমার কাছে সবই শেয়ার করল। সবই। কেন তোমরা বলছ যে ও কোনো কিছু শেয়ার করে না? এটা তোমাদের ধারণার ভুল। আমি নাদিয়ার কোনো দোষ দিতে চাই না।

পরের দিন। বিকেল বেলা বাগানে বসে আছেন মামা, নাদিয়া, নাদিয়ার দু’জন বান্ধবি।

মামার কণ্ঠ, কই তন্ময় যে এলো না।

–     আসবে না। কাজ আছে নাকি।

মামা নাদিয়ার বান্ধবিদের পরিচয় নিলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন কার কী ইচ্ছে।

শ্রাবণীর জবাব, আমার ইচ্ছে ডাক্তার হওয়া।

তামান্না, আমি ইঞ্জিনিয়ার।

মজা করতে মামার প্রশ্ন, তুমি ইঞ্জিনিয়ার?

তামান্নার হাসি; মামা, আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই।

‘ওহ্ তাই, তুমি বললে ‘আমি ইঞ্জিনিয়ার’ ভাবলাম এ লেভেল পাশ করতে না করতে কিভাবে ইঞ্জিনিয়ার হলে।’

নাদিয়ার ঠাট্টা, ভূয়া ইঞ্জিনিয়ার।

মামা বোঝাচ্ছেন, শোনো, ভূয়া ইঞ্জিনিয়ার হওয়া কিন্তু সহজ নয়। যত সহজ ভূয়া ডাক্তার হওয়া।

শ্রাবণীর প্রশ্ন, তাই নাকি মামা?

–     হ্যাঁ। এই দেশে পেপার পত্রিকায় দেখ না ভূয়া ডাক্তার গ্রেফতার, ভূয়া ডাক্তারের হাতে রোগীর মৃত্যু আরো কতো খবর। কখনো কি দেখেছ ভূয়া ইঞ্জিনিয়ার?

সবাই বলল, তাই তো!

‘মামা ইঞ্জিনিয়াররা রডের বদলে বাঁশ দেয় সেটা দেখেননি?’ শ্রাবণীর কথায় সবার হাসি।

– রডের বদলে যে বাঁশ দিয়েছে সে কিন্তু ভূয়া নয় পিওর ইঞ্জিনিয়ার। পিওর ইঞ্জিনিয়ার টাকার লোভে অথবা অন্য কারো ভয়ে বাধ্য হয়ে এই কাজ করেছে। শ্রাবণী, তার মানে এই নয় যে ডাক্তারদের সাইজ করছি।

শ্রাবণীর সম্মতির হাসি।

–   ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার পেলাম। নাদিয়া কী হতে চায়?

নাদিয়ার জবাব, সেটা এখনো ঠিক করিনি।

–    সবাই ঠিক করেছে তুমি এখনো ঠিক করোনি।

–    হবে, হবে।

–   কবে হবে?

–    নো চিন্তা মামা।

–   সেদিন সোলারের গল্পটা বললাম না। মনে আছে? সময়ের কাজ সময় মতো করতে হবে তুমি যতই পরিশ্রমী আর মেধাবী হওনা কেন।

 

শ্রাবণী একটু চটপটে এবং সাহসী মেয়ে। মাথা ঘুড়িয়ে দেখে রোমানা আসছে, মামা, আমাদের মাঝে এবার আসছে সাংবাদিক রোমানা।

সবার হাততালি। রোমানা শ্রাবণীর পাশে বসল।

মামার প্রশ্ন, রোমানা তাহলে সাংবাদিক হতে চাও?

–     জ্বী।

–     আমি নাদিয়ার মামা, অতএব সবার মামা। রোমানা তোমারও মামা আমি।’ মামা নাদিয়াকে জিজ্ঞেস করলেন, কিরে আরও কেউ আসবে?

–     মনে হয় না।

–     কেন?

–     সবাই ব্যস্ত।

রোমানা যোগ করল, মামা পরীক্ষা শেষ। সবাই কোচিং নিয়ে ব্যস্ত। দম ফেলার সুযোগ নেই।

–    তোমরা কীভাবে সময় পেলে?

–     আমরা পাশেই থাকি। তাছাড়া আমার ইচ্ছে প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া।

–     প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি কেন?

–     কারন পছন্দের সাবজেক্টটা পাবলিকে নেই। তাছাড়া এসব ভার্সিটিতে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন।

রোমানার  উত্তর পাওয়ার পর মামা বাকি সবাইকে বললেন, কে কোথায় ভর্তি হতে চাও? কে কোথায় কোচিং করছ?

শ্রাবণী বলল, আমি আর তামান্না কোচিং করছি না। দেশের বাইরে পড়াশুনা করবো। সেটার প্রিপারেশন নিচ্ছি।

–     দেশের বাইরে যাবে কেন? দেশে থাকো। দেশের প্রতি টান নেই তোমাদের?

–     আছে।

–     দেশে থাকছ না কেন?

–     মামা আপনি দেশে থাকেন না কেন? শ্রাবণী প্রশ্ন করে বসল মামাকে।

মামা একটু ঘাবড়িয়ে গেলেন। জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললেন, আমি কাজ করব এমন জায়গাই তো দেশে নেই। কেউ জায়গা দিতেই চায় না।

শ্রাবণী ঠোঁট কাটা মেয়ে- আমরাও জায়গা পাচ্ছি না তাই বিদেশে পালাচ্ছি।

রোমানার প্রশ্ন, মামা আপনি কোথায় পড়াশুনা করেছেন?

–     বুয়েটে।

–     দেশের বাইরে গেলেন কেন?

–     স্কলারশিপ পেয়ে গেছি। আর দেশে আসিনি।

–     তাহলে দেশের লাভ কী? যে দেশে গেছেন তাদের লাভ হচ্ছে।

–   তা ঠিক।

–     এতে কি আপনাকে গালি দেয়া যাবে, দেশপ্রেম নাই বলে?

মামা লজ্জা পেয়ে গেছেন।

রোমানা বলে চলেছে, সবাই উন্নত দেশে যেতে চায়। সুযোগ যারা পায় তারাই চলে যায়। তফাৎ কেউ আগে কেউ পরে।

তামান্না অনেকক্ষণ চুপ ছিল। সে সুযোগ পেল এবার কথা বলার।

–     মামা, দেশে ডাক্তাররা যে কোনোস্থানে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে বসলে টাকা কামাই করতে পারে। কিন্তু  ইঞ্জিনিয়াররা তা পারে না। তাই নিশ্চিত জীবনের জন্য ইঞ্জিনিয়াররা দেশ ছাড়ছে সবার আগে।

রোমানা অনুসন্ধানী টাইপের, মামা আপনি দেশে আসার জন্য বুয়েটের  সাথে যোগাযোগ করেননি?

– চেষ্টা করেছি। বুয়েট থেকে জানাল, সময় হলে জানাবে। ওরা নিজে থেকে জানাতে চেয়েছিল। আর পরে জানায়নি। আমিও ততদিনে বিয়ে-শাদি করেছি। দেশে আসার চেষ্টা তখনই শেষ।

(তৃতীয় পর্বের শেষ)