মালিক শ্রমিক সৌহার্দ্য চাই

মালিক শ্রমিক সৌহার্দ্য চাই

এসবিসি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শ্রেণির শ্রমিক নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘বিদেশের কাছে দেশের বিরুদ্ধে বদনামের অশুভ তৎপরতা চালিয়ে কোন লাভ হবে না।‘ প্রধানমন্ত্রী দৃঢতার সঙ্গে বলেন, তিনি যতদিন ক্ষমতায় আছেন ততদিন এসব করে কোন লাভ হবে না। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এই আলোচনা সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। বাসস বাংলা

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে আইএলও প্রতিনিধি গগন রাজভান্ডারি, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কামরান টি রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি মো, সিদ্দিকুর রহমান এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক পরিবারের সদস্য এবং শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যতদিন ক্ষমতায় আছি বাইরের কারো কাছে নালিশ করে কোন লাভ হবেনা। আমি জাতির জনকের কন্যা এবং দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসেই রাষ্ট্র পরিচালনা করে যাচ্ছি। আমি যা কিছু করেছি এবং করছি দেশের কল্যাণের জন্যই। লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে সমুন্বত রাখা, দেশবাসী এবং দেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানিত করা-এটাই আমার লক্ষ্য। কারো কাছে মাথা নিচু করা নয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য আমি বলবো, কিছু কিছু লোক শ্রমিক নেতা সাজতে গিয়ে- যারা জীবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করুক আর নাই করুক শ্রমিকদের উপর একটু খবরদারি করে। আর একটু কিছু হলেই বিদেশীদের কাছে গিয়ে নালিশ করে, আর দেশের বদনামটা তুলে ধরে। এই বদনামটা তুলে ধরতে গিয়ে হয়তো একখানা টিকিট বিনে পয়সায় পান,বিদেশে থাকার একটু সুযোগ পান, একটু সেখানে যেতে পারেন, কিছু সুযোগ-সুবিধা পান। আর ঐ একটু সুযোগের জন্য দেশের বদনামটা বাইরে যেয়ে করে আসা দেশের জন্য যে কতটা ক্ষতিকারক সেটা তারা অনেকেই বুঝতে পারেন না। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশটা আমাদের, এদেশটাকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যত ভালো হবে ততই সকলের কল্যাণ হবে। সকলেরই জীবন মান উন্নত হবে। এই কথাটা বুঝতে হবে, দেশপ্রেম থাকতে হবে।
অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের চাহিদার দিকে দৃষ্টি রেখে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।’

শেখ হাসিনা শিল্প কলকারখানা সুরক্ষা এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমি শ্রমজীবীদের একটা কথাই বলবো, যে কারখানা আপনাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে আপনার ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করে সে করাখানা যেন ঠিকমতো চলে, সেখানে যেন অশান্তি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আমাদের সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।‘

মালিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালিকদের আমি বলবো, যে শ্রমিকরা শ্রম দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনাদের জন্য উৎপাদন করে, আপনি ব্যবসা করেন; অর্থ উপার্জন করেন, আপনারা ভালো থাকেন, আপনাদের পরিবার ভালো থাকে সেই শ্রমজীবী মানুষের প্রতিও আপনাদের আন্তরিক হতে হবে। তাদের প্রতিও আপনাদের কতর্ব্যের যেন কোনরকম কমতি না হয় সেটা দেখতে হবে। মালিক-শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক শক্তি হয়ে কাজ করতে হবে। আমি এইটুকুই চাই আমাদের মালিক এবং শ্রমিক তাদের মাঝে একটা সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক যেন বজায় রাখে। বাইরের থেকে কেউ উস্কানি দিলো অমনি সেখানে শুরু হয়ে গেল তাণ্ডব, এই ঘটনা যেন কখনো না ঘটে সে ব্যাপারে আমি সকলকে সতর্ক করে দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা শ্রমিকদের কল্যাণে তাঁর সরকার গৃহিত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নগাদ বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার রাজনৈতিক অঙ্গীকারও অনুষ্ঠানে পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনার পর ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এসবিসি/এসবি