পুলিশ দুঃখিত, অথচ…

পুলিশ দুঃখিত, অথচ…

এম.আর রয়েল, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) থেকে :  শ্রীনগরের ভাগ্যকুলে পদ্মার নতুন চরের ফসল লুটতে চাইছে ভূমিদস্যুরা। শুরুতে তারা চাঁদা চেয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে হলে বিঘাপ্রতি আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে, ভূমিহীন কৃষকদের এই শর্ত দিয়েছে দস্যুরা। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি ভূমিহীন সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ আদালতে মিথ্যা গুম মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পুলিশ ভূমিহীন সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় টেক্সাস কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম টিপু ও আরেক আসামী হারুন সারেংকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিয়ে শ্রীনগর থানায় আয়োজিত ওপেন হাউস ডে অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। শুরু হয় তোলপাড়। পরে শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মাকসুদা লিমা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ওই দিনই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই ফিরোজ মোল্লাকে জেলার টঙ্গীবাড়ি থানার দিঘীরপাড় ক্যাম্পে বদলি করা হয়। কিন্তু পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করার দুইদিন পরই এক আসামীকে রিমান্ডে আনায় বিভিন্ন মহলে চলছে সমালোচনা।

ভাগ্যকূল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার চর ও আশপাশের এলাকায় লোকজনের মাঝে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত ছাড়া মিথ্যা গুম মামলা হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও প্রভাবশালী এই ভূমিদস্যুদের বিচারের দাবীতে ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের কর্মসূচী ঘোষণা দিয়েছে এলাকার জনগণ।

স্থানীয়রা জানান, গত ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ এলাকায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে শত শত বিঘা আবাদি জমিসহ বহু ঘর বাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ে। সম্প্রতি এ এলাকায় নতুন করে চর জাগলে তারা আশায় বুক বাধে। ইতিমধ্যে ভূমিহীনরা সমিতি গঠন করে উপজেলার সবচেয়ে বড় এই চরে বোরো ধান,পাট, কুমড়া, বেগুন, পটল, কাঁচা মরিচ, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করেছেন। ফসল লাগানোর সময় কেউ বাধা না দিলেও উত্তোলনের সময় বাধে বিপত্তি। ভূমিদস্যুদের কাছে অসহায় হয়ে পরে চাষীরা।

গত ৯ এপ্রিল ভূমিদস্যুদের পক্ষে ভাগ্যকূল গ্রামের জাহাঙ্গীর মোড়ল আদালতে একটি গুমের মামলা করেন। তার অভিযোগ, তার ভাতিজা শরিয়তপুরের জাজিরা থানার কাজী কান্দি গ্রামের শহিদুল ইসলামকে (১৬) গুম করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ভূমিহীন সমিতির ১৭ জনের বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেণ এই ব্যক্তি। আদালতের নির্দেশে শ্রীনগর থানা পুলিশ বিষয়টি মামলা হিসাবে রেকর্ড করে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুম হওয়া ভিকটিমের ঠিকানায় এই নামে কেউ নেই। শ্রীনগর থানার ওসি তদন্ত ফরিদ উদ্দিন জানান, ‘জাজিরা থানা পুলিশ মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে লিখিত ভাবে আমারা এখনো অনুসন্ধান রিপোর্ট পাইনি।‘ মামলার ৩ নম্বর সাক্ষী আঃ খালেক স্বীকার করেন, আসামীরা টাকা না দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। জাজিরার ওই ঠিকানায় মামলার ভিকটিম শহিদুল নামের কেউ নেই বলেও তিনি জানান। ৪ নম্বর সাক্ষী মোঃ আলী ফরাজী বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে এই মিথ্যা মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।;

ভাগ্যকূল বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট চক্রের মুল দুই হোতার  ছত্রছায়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন চিহ্নিত রাজাকার।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ও ভাগ্যকূল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মিটুল এই ভুমিদস্যুদের বিচার চেয়েছেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেছেন,  মামলাটি মিথ্যা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ পারভেজ অচিরেই গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তিসহ মামলাটি প্রত্যাহারের দাবী জানান।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মামলাটির সত্যতা পাওয়া যাচ্ছেনা। আমরা এব্যাপারে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।‘

এসবিসি/এমআরআর/এসবি