পুলিশ কেন ছাড়ে বারবার!

পুলিশ কেন ছাড়ে বারবার!

এম.আর রয়েল, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ থেকে : মাদকের টাকা না পেয়ে বাবাকে মারধর করেছিলো কাউসার। বাবা থানায় মামলা করেও প্রতিকার পাননি। এবার এক কলেজ ছাত্রীকে মারধোর করে তার সুপুত্র থানায় গেছে ঠিকই, পুলিশ তাকে ছেড়েও দিয়েছে। কারণ হিসেবে শ্রীনগর থানা জানিয়েছে, বখাটে কাউসারকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছিলেন কুকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু। কাউসারকে ছেড়ে দেয়া ঠিক হয়নি, এই মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

২২ বছরের কাউসার শ্রীনগর উপজেলার বিবন্দী গ্রামের ইউসুফ শেখের ছেলে। বুধবার দুপুরে সরকারী শ্রীনগর কলেজের এক ছাত্রী কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিল। গ্রামের পাকা ব্রিজের কাছে কাউসার মেয়েটির পথরোধ করে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।  ওই ছাত্রী রাজি না হওয়ায় কাউসার তাকে পাকা ব্রিজের উপর মারধর করে।  ছাত্রীর চিৎকারে আশ পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বখাটে কাউসার পালিয়ে যায়।  ছাত্রীর বাবা ওই দিন সন্ধ্যায় শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতে শ্রীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম কাউসারকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

আমিনুল ইসলাম জানান, পরদিন সকালে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবুর অনুরোধ আসে। ইউপি সদস্য আঃ কাইয়ূম মিন্টু, রেখা বেগম ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সাত্তার মুক্তার জিম্মা হয়ে কাউসারকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুলিশ বখাটে কাউসারকে আটকের পরপরই একটি প্রভাবশালী মহল কলকাঠি নাড়ে। ওই  ছাত্রীর পরিবারকে নানাভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে।

এ ব্যাপারে কুকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বাবু বলেন, বাদী বিবাদী দু’পক্ষের অনুরোধে থানায় ফোন করেছিলাম। তবে কাউসার বখাটে তা জানতাম না।

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। তবে বখাটেকে ছেড়ে দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। এতে করে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরো বাড়বে।

কাউসার কয়েক মাস  আগে মাদকের টাকা না পেয়ে তার বাবাকে মারধর করে। ওই ঘটনায় কাউসারের বাবা বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ওই ঘটনায়ও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এসবিসি/এমআরআর/এসবি