প্রফেসর’স ব্রিগেড

প্রফেসর’স ব্রিগেড

আগে যা ঘটেছে : নাদিয়া রহস্যের বেড়াজালে জড়াচ্ছে নিজেকে। ফেসবুক পেজ রে, টুম্পা অপহরণ ও উদ্ধার এবং এরপর আরও একটি ঘটনায় নাদিয়ার পজিটিভ রোল অবশ্যই পজিটিভলি নিয়েছে র‍্যাব। এমনিতেই র‍্যাব তাকে চিনতে চাইবে, জানতে চাইবে রে পেজের বাংলাদেশ এডমিন নাদিয়ার পরিচয়। বিনা কারণেই যেন পরিচয় হয়ে গেল তন্ময়ের সাথে । বিদেশ ফেরত প্রফেসর মামা বেশ জাঁকিয়ে বসেছেন নাদিয়ার বন্ধুমহলে। এর মাঝেই নতুন রহস্যের হাতছানি। তরুণ লেখক জাকির সোহান লিখছেন কিশোর উপন্যাস প্রফেসর’স ব্রিগেড, আজ সপ্তম পর্ব।

রোমানা রাত বারোটার পর অনলাইনে দেশের ইংরেজি পত্র-পত্রিকা ঘাটাঘাটি করছে। দৈনিক রেড নিউজ-এর প্রযুক্তি পাতায় একটা খবর দেখে উৎসাহী হলো। খবরটার শিরোনাম-‘গেমস খেলুন, কোটি টাকা জিতুন!’ বিস্তারিত পড়ে কৌতূহল জন্মালো। গেমসটা আহামরি নয়। কিন্তু জিততে পারলে কোটি টাকা পুরস্কার! পুরস্কারের কথাটা লাস্টে ছোট করে লেখা। রোমানার ক্যামন ক্যামন মনে হচ্ছে- ব্যাপারটা কী?

নাদিয়াকে ইনবক্সে জানাল, নাদিয়া গুরুত্ব দিলো না। বলল, এরকম হাজারো গেমস আছে। বেশির ভাগ ভূয়া। দেশে কেউ কোটি টাকা দিবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। যদি কোটি টাকা পুরস্কার দিত তাহলে সারা দেশে ঢাকঢোল পিটিয়ে গেমস আসার কথা জানাত।

রোমানা নাদিয়ার কথা ফেলে দিলো না। সে যেনো নতুন তথ্য পেল। তাই সন্দেহ বেড়েই চলছে। সারারাত ধরে সারা দুনিয়ার গেমসের খবরাখবর পড়ল।

সকাল বেলা মামার সাথে দেখা। মামা রোমানার চোখ দেখে বুঝলেন- সে রাতে ঘুমায়নি। ‘রাত জাগা এ যুগের ছেলেমেয়েদের বদঅভ্যাস’ ইত্যাদি ইত্যাদি বললেন।

রোমানা সে বিষয়ে কোনো কথা না বলে আসল বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করল।

–  মামা, ভিডিও গেমস নিয়ে আপনার গবেষণা কী রকম?

মামা কথাটা শুনে অনেক ভাবনার মধ্যে পড়ে গেলেন। হঠাৎ সাতসকালে এ প্রশ্ন!

–  কেন?

–   মামা, নরমাল গেমস খেলে কোটি টাকা পুরস্কার দিচ্ছে দেশে।

মামা বিস্মিত- কোটি টাকা পুরস্কার!

রোমানা বিস্তারিত বলল মামাকে।

মামার একটাই উচ্চারণ, ভাবনার বিষয়।

তার মনেও সন্দেহ ঢুকে গেছে। রোমানা ভালোভাবে মামাকে বোঝাতে পেরেছে।

তিনি বললেন, একটুপরে এসো, কথা হবে।

 

ঘণ্টা দুয়েক পরে মামা, নাদিয়া আর রোমানা বাগানে বসে বিষয়টা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করছেন।

রোমানা মোবাইলে নিউজটা মামাকে দেখাতে গিয়ে দেখে, নিউজটা নেই! মামা এবং রোমানা বিস্মিত কিন্তু নাদিয়া চুপচাপ।

এই মুহূর্তে শ্রাবণী আর তামান্না এলো। তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। বিদায় নিতে এসেছে মামার কাছে। গ্রামের বাড়ি থেকে এসে বিদেশে চলে যাবে। মামারা ওদের বিদায় দিয়ে আলোচনায় বসলেন।

মামা বললেন, এই গেমসটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। তারপর বোঝা যাবে এর ব্যাপার-স্যাপার। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

 

বিকেল বেলা। নাদিয়ার রুমে মামার জন্য কম্পিউটার সেট করা হলো। মামা অনেক সাইট, লিংক আরো কতো কী ঘাঁটাঘাঁটি শেষে একটা গেমস খেলা শুরু করলেন। গেমসটা খুব সহজ কিন্তু মাত্র আধা ঘণ্টা খেলাতেই মামার মাথা ঘুরতে লাগল। তারপরেও কিছুক্ষণ খেলার পর মাথা ঘোরা ঠিক হয়ে গেল আপনা আপনি। মামা গেমস খেলতে খেলতে হাসতে লাগলেন একা একা। মামার গলা শুকিয়ে গেল। পানি চাইলেন। নাদিয়া পানি দিলো। রোমানা সবকিছু ভিডিও করছে। মামা কিছুক্ষণ পর পর পানি খাচ্ছেন। নাদিয়া আর রোমানা একে অপরকে  ভ্রু কুঁচকালো। কেউ কিছু বুঝল না। রাত দশটা বেজে গেল বুঝতে পারেনি। রাত বারোটা বাজে মামার ঘুম নেই, গেমস খেলছেন আর হাসছেন। এত পানি খাওয়ার পরও মামা একবারের জন্য বাথরুমে গেলেন না এখনো! সারারাত মামা গেমসটা খেললেন। ভোর বেলা মামা চেয়ার থেকে ঢলে পড়লেন। নাদিয়া ও রোমানা তাকে ধরে বিছানায় শুইয়ে দিলো। সকাল দশটার দিকে মামার ঘুম ভাঙ্গল। মামা দেখেন, নাদিয়া আর রোমানা এখনো দাঁড়িয়ে আছে তার পাশে।

তিনি বললেন, আমি ঠিক আছি। তোমরা একটু ঘুমিয়ে নাও। বাকিটা পরে বলব।

 

বাসার ছাদে যথারীতি মামা, নাদিয়া ও রোমানা হাজির।

মামা বললেন, রোমানা তুমি অনেক ভালো একটা বিষয় পেয়েছ। এটা ‘ডি গেমস’ হতে পারে যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

রোমানার শরিরে শিহরণ জাগল।

–  ‘ডি গ্রুপ’একটা রহস্য। ‘ডি’তে অনেক কিছু হতে পারে। ডি-তে ড্রাগস, ডি-তে ড্রাকুলা, ডি-তে ডিজিটাল, ডি-তে ড্রামা, ডি-তে ডিজুস আরো অনেক কিছু হতে পারে। আফ্রিকায় এরকম একটা গেমের স্যাম্পল ছেড়েছিল। সেটাই খেললাম সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত। খেলার আগে আমি এন্টি-ড্রাগস ক্যাপসুল খেয়েছি। ফলে ড্রাগস-এর আসক্তি জাগার আগেই ঘুমিয়ে পড়েছি। কিন্তু যারা ‘ডি-গেমস’ নিয়মিত খেলবে তারা এক পর্যায়ে ড্রাগসে আসক্ত হবে। এই ড্রাগস দেশে পাওয়া যায় না। বিদেশেও সবখানে পাওয়া যায় না। এটা আফ্রিকায় প্রয়োগ করতে চেয়েছিল ড্রাগস ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আফ্রিকা গরিব দেশ হওয়ায় সেখানে এই প্রজেক্ট বাতিল করা হয়। আমার ধারণা, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানে কাঁচা টাকা উড়ে। অতএব, ড্রাগস ব্যবসা জমবে ভালো। বুঝেছ?

নাদিয়া আর রোমানা জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজালো।

–   দেশি বিজ্ঞানী কারা এটার পেছনে কাজ করছে খুঁজে বের করতে হবে।

 

নাদিয়া ও রোমানাকে মামা পাঠালেন পত্রিকা অফিসে। যে পত্রিকায় গেমস-এর নিউজটা এসেছে। সেখানে ঘুরে ফিরে যদি কোনো তথ্য পায়। রোমানা একটা ফিচার লিখে নিয়ে পত্রিকা অফিসে গিয়ে ফিচার এডিটরকে খোঁজ করল। বিভিন্ন ডেস্কে খুঁজল। পেল না।

অফিস স্টাফ বলল, ফিচার বক্সে লেখাটা ফেলে দিন। এডিটর এসে বের করবেন।

রোমানা তা-ই করল। পত্রিকা অফিসে গেমস নিয়ে কোনো সাড়াশব্দ নেই দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।  মামার কাছে সব জানালো।

মামা বললেন, ড্রাগস ব্যবসায়ীদের সাথে পত্রিকার কারসাজি আছে। নিউজটা কিছুক্ষণ পত্রিকায় রেখে ডিলিট করেছে। যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে দু-চার জন জানতে পারে।

নিউজ নিয়ে যতই নয় ছয় হোক না কেন তাদের উদ্দেশ্য এখনো বহাল রয়েছে বলে মামা হুঁশিয়ার করলেন।

গোটা দেশ চুপ! আসল ব্যাপারটা মনে হয় কয়েকজন ছাড়া কেউ বুঝতে পারেনি।

(সপ্তম পর্বের শেষ)

এসবিসি/জেডএস/এসবি