সাতছড়ির অর্কিড

সাতছড়ির অর্কিড

ফেরদৌস শিউলী ঃ টেইলটা ছোট হয়েছে তাতেও আমি আত্নহারা ।এতোই আত্নহারা যে ছবি তুলতেই ভুলে গেছিলাম । রিনকোস্টা ইলিস রেটুসা, ( Rahynchostylis retusa orchid) ইংরেজি শব্দ Foxtail orchid । বনে জঙ্গলে উন্মুক্ত স্হানে ফোটে এটা। এটা ভুটান, কম্বোডিয়া, চায়না, ইন্দোনেশিয়া, ক্রাউস , মালেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা ,মায়ানমার, ইন্ডিয়ায় জন্মে।

ইন্ডিয়ায় অন্ধ্র প্রদেশ ও উরিষার উত্তর পূর্বে বেশী পাওয়া যায়। তেলেগুতে একে চিন্তারানামু বলা হয়। ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশ এবং আসাম ও শ্রীলঙ্কার উভা প্রদেশ এর জাতীয় ফুল এটি। আসামে এটিকে কপৌ ফুল বলে। বসন্তের আগমনী নৃত্য বিহুর সময় আসামীয়া নারীদের চুলের অলংকরনের জন্য এটা অতি জনপ্রিয় ফুল। এটাকে আসামে প্রেম বন্ধন এবং উর্বরতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এবং সেই কারনে আসামীয়দের বিবাহ অনুষ্ঠানে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।

আমার কাছে এই গাছ থাকার নেপথ্য কাহিনী : আমরা পাঁচ জনেরএকটি দল গত বছর আগস্ট মাসে গিয়েছিলাম সাতছড়ি। উদ্দেশ্য বনে জঙ্গলে ঘুরাঘুরি। হঠাৎ একদিন ফয়সালের চিল্লাচিল্লি, ‘আপা দেখেন! দেখেন আপনার জন্য কি আনছি!’ দৌড়ে যেয়ে দেখি, দু’হাত ভর্তি অর্কিড আর বত্রিশ দাঁত ঝলমল করছে। আমি আঁতকে উঠে বল্লাম, ‘এগুলো গাছ থেকে ছিঁড়লা কেন !’

সে বললো, ‘আপনি যা ভাবছেন তা নয়। একটা গাছ জঙ্গলে পড়ে আছে। এইগুলোও তো কয়েক দিন পর মরে যাবে। তাই আপনার জন্য নিয়ে আসলাম।’

লিসা বললো ‘আমি নিমু। অর্ধেক আপুর অর্ধেক আমার।’

ফয়সাল ঝাড়ি দিয়ে বললো, ‘আপনি তো নিয়ে ফালায় দিবেন। আপার কাছে গাছগুলা থাকবে।’

লিসা বললো, ‘না।আমিও গাছ পছন্দ করি। আমারও গাছ আছে। আমি এই গুলান বারান্দায় লাগামু।’

আমি আমার গাছ বন্ধুদের কাকে কাকে দেওয়া যায় চিন্তায় ছেদ টেনে আচ্ছা অর্ধেক তোমার লিসা বলে দুজনার ঝগড়া থামালাম। ( ঢাকা ফেরার পর লিসাকে অর্কিডগুলোর খবরাখবর জানতে যেয়ে বুঝতে পেরেছি ফয়সালের কথা ভুল ছিল না। হা হা হা) বাসায় ফেরার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ফয়সাল গাছগুলোকে পরম মমতায় যত্ন আত্তি করেছে।

রাতে ফিরেছি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গাছগুলো নিয়েই নার্সারীতে রওনা দিলাম। ওগুলো দেখিয়ে বললাম, এই গুলোর পট দেন। গাছগুলোর দিকে মারাত্মক অবহেলার দৃষ্টি রেখে উত্তর দিলো, ‘এইগুলো তো দেশী অর্কিড। এতগুলো দেশী অর্কিড দিয়ে কী করবেন? ফুল ফুটবে নাতো। টাকা নষ্ট , আরো বিদেশী আর্কিড আসবে। এটা ওটা বলে আমাকে রাজী করাতে ব্যর্থ হলো যে, এগুলো ফেলে দেয়া উচিত। শেষমেষ বললো, ‘আচ্ছা রেখে যান, আমি আমি করে দেবোনি । আমি পরদিন সকালে আবার দৌড় দিলাম নার্সারিতে। আমি তো হতাশ। এত ছোট পট দিছেন কেন ! মাত্র দুটো কেন ?! আমার চেয়েও হতাশা উনার কন্ঠে, ‘ম্যাডাআআআম ইগুলোতে ফুল ফুটবেনানি।’

এসবিসি/এফএস/এসবি