ধারাবাহিক উপন্যাস

ধারাবাহিক উপন্যাস

জাকির সোহান : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক বিরোধী কনসার্ট হবে। ফেসবুক ইভেন্ট চালু করেছে ‘মাদক বিরোধী সাধারণ ছাত্র পরিষদ।’ ইভেন্টটা নাদিয়ার ফেসবুকের নিউজ ফিডে আসায় নজরে পড়ে। সে মামাকে জানালো। মামা রোমানাকে ছদ্মবেশে মাঠের খবরাখবর সংগ্রহ করতে বললেন। রোমানা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, টিএসসি এলাকায় ভবঘুরে নারির বেশে চষে বেড়াতে লাগল। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় কষ্ট হচ্ছিল। আয়োজকদের সে খুঁজে পাচ্ছে না। কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টেজ সাজাচ্ছে কয়েকজন ডেকোরেশনের কর্মী। তাদের আশপাশ ঘুরে রোমানা কোনো আয়োজককে পেল না।সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক বিরোধী কনসার্ট হবে। ফেসবুক ইভেন্ট চালু করেছে ‘মাদক বিরোধী সাধারণ ছাত্র পরিষদ।’ ইভেন্টটা নাদিয়ার ফেসবুকের নিউজ ফিডে আসায় নজরে পড়ে। সে মামাকে জানালো। মামা রোমানাকে ছদ্মবেশে মাঠের খবরাখবর সংগ্রহ করতে বললেন। রোমানা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ, টিএসসি এলাকায় ভবঘুরে নারির বেশে চষে বেড়াতে লাগল। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় কষ্ট হচ্ছিল। আয়োজকদের সে খুঁজে পাচ্ছে না। কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্টেজ সাজাচ্ছে কয়েকজন ডেকোরেশনের কর্মী। তাদের আশপাশ ঘুরে রোমানা কোনো আয়োজককে পেল না।       কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন।        রোমানা সকাল থেকে আসমাকে ফলো করছে। সকাল থেকে তার মেসের সামনে অবস্থান নিয়েছে। দুপুর তিনটার দিকে একটা সি.এন.জি অটোরিক্সা থামল মেসের সামনে। ওমনি আসমা সেটাতে উঠে কোথায় যেনো গায়েব হয়ে গেল। রোমানা টিএসসিতে এসে খুঁজতে লাগলো আসমাকে। পেল না। ওদিকে কনসার্ট শুরু হয়ে গেছে। রোমানা কনসার্টের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। কনসার্ট চলতে চলতে হঠাৎ মারামারি লেগে গেল। ফলাফল- কনসার্ট পণ্ড। রোমানা কিছু বুঝতে পারল না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বেড়িয়ে টিএসসিতে এসে দেখে আসমা প্রতিবাদী সমাবেশে লিড দিচ্ছে। আসমার দুপাশে প্লে কার্ড নিয়ে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছে ‘মাদক বিরোধী কনসার্টে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই!’ রোমানা মামাকে সব ঘটনা খুলে বলল। সবার হাসি। কারণ রোমানা কোনো তথ্যই আগাম দিতে পারেনি।        মামা বলতে লাগলেন, কনসার্টে হামলাটা পূর্ব পরিকল্পিত। সরকারকে চাপে রাখাই এর উদ্দেশ্য। রোমানা বলল, ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের ঘাড়ে দোষ দিচ্ছে যে।-  ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের টাকাখাওয়া নেতা-পাতি নেতাদের দিয়ে মারামারি বাধিয়ে ফায়দা লুটছে। এর দায় ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনটিও এড়াতে পারে না। তুমি তো আবার রাজনীতি পছন্দ করো না। কিন্তু কোনো ঘটনার পেছনে অনেক নীতিই থাকে। তুমি এখান থেকে তোমার পছন্দেরটা বেছে নিবে-এই যা। দেশের মানুষজন মাদক বিরোধী কনসার্ট ও কনসার্টে হামলা এবং হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। এসব তো নিয়মিত ব্যাপার। মধ্যখানে যারা প্রতিবাদ করল তারা লাভবান হলো আর ‘ডি গেমস’ ব্যাবসায়ীরা নিজেদের নিরাপত্তা বাড়িয়ে আড়ালে নিশ্চিতে থাকার উপায় পেল।

 

নাদিয়া হাসিবের বাসায়। হাসিবের মায়ের সঙ্গে দেখা। হাসিবের মা ছেলেকে নিয়ে উদ্বিগ্ন। হসপিটালে একবার দেখা হয়েছিলো জানিয়ে নাদিয়া পরিচয় দিলো, পাশের রোডে থাকি। হাসিব আমার বন্ধু।      হাসিবের মা- জাহানারা হক, বাবা-ইসমাইল হক। ইসমাইল হক দেশের বাইরে অনেক দিন ধরে। জাহানারা হক একাই। নাদিয়াকে দেখে মনের কথা সব খুলে বলতে লাগলেন, ছেলেটা আমার সারাক্ষণ ভিডিও গেমস নিয়ে পড়ে থাকে। গেমস হলে আর কিছু তার চাই না। গেমস খেলার জন্যই সে বারবার অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। সান্ত্বনা দিয়ে নাদিয়ার প্রশ্ন, আন্টি, হাসিবের অবস্থা এখন কেমন?-  ডাক্তার জানিয়েছে অবস্থা ভালো। জাস্ট গেমস খেলা থেকে দূরে রাখতে হসপিটালে কিছুদিন রাখতে চায় ডাক্টাররা। হসপিটালে সাইকোলজিস্ট দিয়ে কাউন্সিলিং করাচ্ছে। আমি চাই-যেনো গেমস-এর নাম চিরতরে ভুলে যায় ছেলেটা। অন্যকিছু খেলুক, ফুটবল, ক্রিকেট আরো কতো কি খেলা আছে সেগুলো না খেলে সারাক্ষণ গেমস নিয়ে ব্যস্ত।-   কেউ গেমস নিয়ে ব্যস্ত কেউ বা বই নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত। সবসময় রুমে থাকতে থাকতে বোর লাগে আন্টি। আন্টি, হাসিবকে দেখতে যাবেন না?-  ডাক্তার তো নিষেধ করেছে। বলেছে দেখা করতে আসার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে ওরা নিজেরাই ফোনে কন্ট্যাক করবে। যদি বাসায় নিয়ে আসতে চাই- যে কোনো সময় নিয়ে আসতে পারবো। বাসায় তো ওর বাবা নেই। কখন কি হয়। তাই হসপিটালেই থাক। ওর বাবা আসলে বাসায় নিয়ে আসবো। আচ্ছা, মা, শুধু বারিধারার ছেলেমেয়েরা কেন অসুস্থ হলো? প্রশ্নটা শুনে নাদিয়ার অন্তর আত্মায় কাপুনি। উত্তর সে তো জানে। উত্তরটা জানালে যদি আরো বড় ক্ষতি হয়ে যায় দেশের?      নাদিয়ার কৌশলের আশ্রয়, আন্টি, এলাকার আবহাওয়া অন্য রকম। তাই হয়তোবা।-   আর কে কে আক্রান্ত হলো?-   আমি তো কেবল হাসিবকে চিনতাম।-  জানা দরকার না বাকিদের কি অবস্থা। ধরো কে কতো দিন ধরে গেমসে আসক্ত, তার উপর গেমস-এর প্রভাব কি রকম পড়েছে। জানা দরকার। হাসিব তো সুস্থ। কেউ গুরুতর অসুস্থ কি না। গুরুতর অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা দেশে আছে কি না। এসব জানা দরকার। তাই না? নাদিয়া জাহানারা হকের কথাগুলো শুনে বিস্মিত। মনে মনে প্রশ্ন করল, ডি গেমস আসক্তদের সব ধরনের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নাকি বিদেশে যেতে হবে ওদের কোনো হসপিটালে? টাকা খসাতে আরো কতো নোংরা ও জঘন্য কাজই না মাফিয়ারা করতে পারে। নীরব ছিলেন জাহানারা হঠাৎ কেঁদে ফেললেন, আমার একটাই ছেলে, ছেলেটাই আমার অবলম্বন। নাদিয়া জাহানারা হকের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে, চিন্তা করবেন না, গেমসে আসক্তদের চিকিৎসা আছে। সমস্যা নেই। আপনি শক্ত হোন। হাসিবের পাশে থাকুন। নাদিয়া হাসিবদের ড্রয়িং রুমে বসে। পাশে হাসিবের মা। উনি থেকে থেকে কাঁদছেন। উনি একাই থাকেন বিশাল বাড়িতে। এ এলাকার বেশির ভাগ বাড়ির দৃশ্য এটা। কথা বলার লোকও পান না। নাদিয়ার সাথে কথা বলতে পেরে খুব হালকা লাগছে।      নাদিয়ার প্রশ্ন, আন্টি হাসিবের পেছনে কতো টাকা খরচ হলো?- আজসহ পনেরো দিন হসপিটালে আছে। এ পর্যন্ত দশ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।- ডাক্তারদের নাম জানেন?- না। ডাক্তারদের একটা টিম আছে। টিমের প্রধান বিদেশি। কি যেনো নামটা মনে পড়ছেনা এখন।- অনেক টাকাই তো লাগছে।- না, না, না এটা কোনো ব্যাপার না। আরো লাগলে দেবো। যতো লাগবে দেবো। যে দেশেই নিতে বলবে সে দেশেই নিয়ে যেতে কালক্ষেপণ করবো না। ছেলে তো একটাই।    নাদিয়া বুঝতে পারলো এভাবে টাকা খসাচ্ছে ‘ডি গেমস’-এর হোতারা। নাদিয়া আবার কোনো একদিন আসবে বলে বিদায় নিয়ে চলে আসলো।
মামাকে সব জানালো নাদিয়া।  শুনে মামা বললেন, মাত্র দশ কোটি! আরে হাসিবরা তো কোনো ব্যাপার না। এদের মারবে না। এদের মাধ্যমে বড়লোকদের ছেলেমেয়েদের কাছে ড্রাগস এর বাজার তৈরি করবে। তখন কতো টাকা যে কামাই করবে হিসাব করে তার কূলকিনারা পাবে না।

প্রফেসর’স ব্রিগেড-এর জরুরি মিটিং তলব করা হলো। সবাই হাজির। প্রফেসর আজহার সদস্যদের উদ্দেশ্যে, আমরা যে ‘ডি গেমস’ ধ্বংসের প্ল্যান করেছি তাতে কেউ কি সন্দেহ করে আমাদের? কেউ কি বুঝতে পেরেছে? চিন্তাভাবনা করে সবাই একই কথা বলল, না।      মামা নাদিয়াকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বিদেশি বন্ধুদের খবর কি?- ওদের জানিয়েছি সব। ওরা রাজি।- তাহলে ‘রে’ পেজ থেকে প্রথম ডি গেমস বিরোধী প্রচারণা শুরু করে দাও। স্টাটাস দিবে দেশের বাইরে থেকে। যেনো কেউ বুঝতে না পারে এদেশে আমরা ডি গেমস বিরোধী ।- ওকে।    ঢাকার সাথে লণ্ডনের সময়ের পার্থক্য ছয় ঘন্টা। লণ্ডনে ভোর থেকেই ডি গেমস ষড়যন্ত্রের ভয়াবহতা তুলে ধরে ‘রে’ পেজে আলোচনার ঝড় শুরু। সময় গড়িয়ে গেলে বাংলাদেশিদের কেউ ডি গেমস বিরোধী প্রচারণাকে  ভারত কেউবা পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র বলে মান্ধাতা আমলের সেই  কুফা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে তৎপরতা চালাতে উঠে পরে লাগল।

এসবিসি/জেডএস