ভোলায় ইলিশ বেসুমার

ভোলায় ইলিশ বেসুমার

এসবিসি ডেস্ক : দেশের উপকূলীয় জেলা ভোলায় গত কয়েকদিন যাবত জেলেদের জালে প্রচুর পরিমান ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। একমাত্র দ্বীপজেলার নদ-নদী ও সাগর মোহনায় আশানুরূপ ইলিশ পাওয়ায় জেলে পল্লীতে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। জেলা সদরসহ বিভিন্ন মাছের ঘাট, আড়ৎ, পাইকারী ও খুচরা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক-ডাক ও দর কষাকষিতে প্রতিদিন মুখরিত হচ্ছে ইলিশের বাজার। আর দীর্ঘদিন পর জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। হাসনাইন আহমেদ মুন্না, বাসস বাংলা।

সদর উপজেলার ভোলার খাল মাছের ঘাট, নাছির মাঝি মাছঘাট, কোরার হাট মাছের মোকাম, তুলাতুলি মাছ ঘাট, বিশ্বরোড মাছের ঘাট, জংশন এলাকার মাছঘাট, ইলিশার মাছ ঘাট, দৌলতখান উপজেলার পাতার খাল, চরফ্যশনের চেয়ারম্যানের খাল মাছ ঘাটসহ বিভিন্ন ইলিশের মোকামে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। মোকামগুলোতে জেলেদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। সারারাত নদীতে মাছ ধরে সকাল বেলা ঘাটগুলোতে চকচকে ইলিশ নিয়ে আসে জেলেরা।

ঘাটে নৌকা অথবা ট্রলার ভিড়ানোর সাথে সাথেই হাঁক-ডাক দিতে থাকে ব্যাপারীরা। জেলেরা ঝুড়িতে করে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ নির্দিষ্ট গোলায় রাখে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ইলিশ কিনতে নিলামে ডাক উঠে যায়। স্থানীয় ব্যাপারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যদাতাই সেই মাছ কিনে নিচ্ছেন। মূলত এমনি করেই এখান থেকে ইলিশ যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে। আবার অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি লঞ্চে বা ট্রাকে করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মাছ সরবরাহ করে থাকেন। মৎস্য ব্যবসায়ীরা পাইকারিভাবে এখান থেকে মাছ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করেন।

সদর উপজেলার মেঘনা পাড়ের ভোলার খাল মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. আলআমিন জানান, এবার মৌসুমের প্রথম দিকে তেমন একটা ইলিশ পাওয়া না গেলেও বর্তমানে ইলিশের পরিমাণ বাড়ছে। কয়েকদিন আগেও যেসব আড়তে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি হতো, সেখানে এখন লাখের উপরে বিক্রি হয়। সামনের দিনগুলোতে ভারি বর্ষনের সাথে সাথে জেলেদের জালে আরো ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি জানান। আলআমিন বলেন, প্রতিদিন শুধু এই ঘাট থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এজন্য তিনি সরকারের জাটকা সংরক্ষন কার্যক্রমকে স্বাগত জানান।

বিক্রেতারা জানান, পাইকারী বাজারে এক কেজির উপরে ইলিশের হালি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮’শ থেকে ১ হাজার গ্রাম ইলিশের হালি ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৬’শ থেকে ৯’শ গ্রামের হালি ২ হাজার থেকে ২৪’শ টাকা। আর ৪’শ থেকে ৬’শ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১৪’শ থেকে ১৮’শ টাকা হালি।

ধনীয়া এলাকার বাসিন্দা জেলে লুৎফর গাজী সফতউল্লাহ ও রহমান মাঝী বলেন, তারা ছোট ইজ্ঞিনচালিত নৌকা করে মেঘনায় ইলিশ শিকার করেন। কয়েকদিন আগে এমন অবস্থা ছিল যে ইলিশ না থাকায় ট্রলারের তেলের খরচও উঠেনি। কিন্তু এখন তাদের নৌকায় দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান। ইলিশা এলাকার জেলে জামালউদ্দিন জানান, নদীতে ইলিশ ধরা পড়লেও ৪’শ থেকে ৬’শ গ্রামের মধ্যম সাইজেরটা বেশি উঠছে। এক কেজি অথবা তারচেয়ে বড় ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বড় মাছের দাম একটু বেশি।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, এবছর মৌসুমের প্রথম দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে কাংঙ্খিত ইলিশ পাওয়া যায়নি। এখন বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। মূলত পানির গভীরতার সাথে ইলিশের নিবির সম্পর্ক রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আরো ইলিশ পাওয়া যাবে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশ মাছই বেশি। বিক্রেতারা সারি সারি ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেছে বাজারগুলোতে। ক্রেতারা পছন্দের ইলিশ কিনতে এক দোকান থেকে ছুটছেন অন্য দোকানে। মুল্য সহনীয় থাকায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। গাজীপুর সড়কের কবির হোসেন জানান, দাম একটু কমে যাওয়ায় তিনি মাছ কিনতে এসেছেন। বাজার ছাড়াও বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভ্যান গাড়ী ও মাথায় করে অনেককে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া ফুটপাতে সাজিতে করে ইলিশ বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা।

অন্যদিকে নদীতে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়াতে বরফের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশ সংরক্ষন ও বাজারজাতকরনের জন্য বরফের কোন বিকল্প নেই। তাই স্থানীয় বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুন।

শহরের কালীনাথ রায়ের বাজারের শীবুর বরফকলের মালিক শীবু কর্মকার  জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বরফের ব্যাপক চাহিদা তার এখানে। প্রচুর চাপ থাকায় বরফ বিক্রি করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে ঢাকাগামী লঞ্চ ছাড়ার আগে বরফের চাহিদা আরো বেড়ে যায়।

এসবিসি/এসবি