পাহাড় ডেকেছিলো

পাহাড় ডেকেছিলো

সালেহ বিপ্লব : কাজু বাদামের বাগান দেখাবে জাকুতারা।  হাইওয়ে ইনের পাশ দিয়ে সেই বাগানের রাস্তা। আমরা পানশপ থেকে পান মুখে দিলাম, সেই পান মুখে নিয়ে কফিপান। এটা ডাক্তারের উদ্ভাবিত পান-কফি রেসিপি বলা চলে। কফিশেষে আরেক খিলি করে পান গলাধঃকরণ করার সিদ্ধান্ত ছিল, সেটা পাল্টে গেলো আমাদের স্থানীয় গাইডের সংবাদ না পেয়ে। যিনি বাগানে নিয়ে যাবেন, তিনিই ফোন ধরছেন না। কাজু বাদাম স্থগিত। আমরা দেরি না করে রওয়ানা হয়ে গেলাম বেভারলি হিলসের দিকে। সবুজের দেয়ালে ছবি তুলব বলে সাদা জামা পড়েছি। পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যা নামে হঠাৎ করে। আলো থাকতে থাকতে পাহাড়কে ছুঁতে হবে। কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি বামে রেখে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে গেছি প্রায়, গাড়ি স্লো করে জাকুতারা একটা ছেলে ডাকল। পারভেজ তার নাম। এখানকার সিসিএন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি’র ডেন্টাল  বিভাগের ছাত্র। জাকুতারা এখানে আগে ক্লাস নিত। খুব জনপ্রিয় শিক্ষক, টের পাওয়া গেল। সিসিএনের দিকে যেতে যেতে অনেকের বিনীত সালাম নিতে হল তাকে। আমিও নিচ্ছি। বেশ উপভোগ্য ব্যাপার। শিক্ষককে সালাম দিচ্ছে ছাত্ররা, সেটা যে কী পরিমাণ আনন্দের; আমিও ফিল করলাম। বেভারলি হিলস দেখতে গিয়ে সিসিএন ক্যাম্পাস পার হলাম, ফুটবল খেলা চলছে পাহাড়ঘেরা মাঠে। ডেন্টালের ছাত্র পারভেজের সাথে আরও একজনকে পেলাম।

মেডিসিন বিভাগের জাহেদ। এই তরুণদের একটা আগ্রহ দেখি, এরা আমাদের প্রজন্মের কাছে শুনতে চায়। আমি এটা খুব যত্নে এড়িয়ে চলি। আমার পলিসি হচ্ছে, বলার চেয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ। আর সব সময় তরুণদের কাছ থেকে শোনার আগ্রহ কাজ করে আমাদের অনেকের মধ্যে। ডেন্টাল বা মেডিসিন বিভাগের ছাত্রের সাথে একাডেমিক আলাপ করার মত জ্ঞান আমার নেই। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায়ও আছে। সহজ ও কমন একটা প্রশ্ন করলাম। তোমাদের লাইব্রেরিতে বইপত্র কেমন? এই আলাপের সূত্রেই ওরা জানালো, বইয়ের হার্ড কপি কেনা হয় কম। দাম যেমন, প্রাপ্যতারও সীমাবদ্ধতা আছে। বেশির ভাগ টেক্সট ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করেছে জাহেদ, বেশ মজা করে জানালো। কথা বলতে বলতে আমরা

বাঁশবাগানের সীমানায় গেলাম। ছবিও তোলা হচ্ছে। আমাদের সাথে মঞ্জিল ভাইও আছেন। খুব ভালো মনের একজন মানুষ। কাজে ব্যস্ত ছিলেন, সেই অবস্থাতেই তাকে ধরে নিয়ে এসেছি আমরা। সে কারণে ছবি তুলতে আপত্তি করলেন মঞ্জিল ভাই, আমরা আপত্তি মিটিয়ে দিলাম অল্প সময়েই। ছবি তোলা হল বাঁশ বাগান, সিসিএন গেট এবং পাহাড়ের ঢালে।

এই প্রজন্মদের দুই ছাত্রের সাথে আলাপ হল ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে। অনলাইনে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়ার সুযোগ এসেছে, প্রতিভা বিকাশের বিষয়টা আছে। অনলাইনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক শুদ্ধতায় ঋদ্ধ হওয়ার অপার সম্ভাবনা আছে। সেই সাথে অপব্যবহারের পথটাও খোলা। পারভেজ ও জাহেদ জোর দিলেন আমাদের সাইবার সিকিউরিটি আরও স্মার্ট করার ওপর। কথা হল অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিয়ে। অনলাইন বানানোর প্রাথমিক জোয়ারটা কেটেছে, এখন যোগ্যতা প্রমাণ করে টিকে থাকার সময়। এই তরুণরাও আপডেট থাকতে চান নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে। তারুণ্যের এই বেগ, আবেগ ও শুদ্ধতাকে ধারণ করতে পারলে অনলাইন নিউজ পোর্টালের বাজার অনেক বড় হবে। এসব কথাবার্তা। সময় হাতে আর নেই।

বের হয়ে আসার সময় আরও সুন্দর কিছু ছবি ধরা দিল জাকারিয়ার ক্যামেরায়। খুব সুন্দর কিছু ফুলে সেজে আছে সিসিএন ক্যাম্পাস। অনেক অনেক ফুল। পাহাড়ের শেষ বিকেল তখন রওয়ানা করেছে সাঁঝের সরোবর পানে, আমরা ফুল-পাহাড় আর তারুণ্যের সৌরভে মেতে ফিরতি পথে নামলাম।  বেশ আগে বৃষ্টি থেমেছে, রংধনু বন্দী হল ডাক্তারের ক্যামেরায়। পাহাড়ি ফ্রেশ কলা আর চায়ের স্বাদ নিলাম বাহাদুর ভাইয়ের সৌজন্যে। আনোয়ার ভাইর জন্য বাগানের বরবটি তুলে দিলেন ব্যাক সিটে। আকার আর স্বাদে এই বরবটি অতুলনীয়। প্রকৃতিকে ছুঁয়ে, আপ্যায়িত হয়ে এবার ফেরার পথে। একটু পর দেখি পাহাড় থেকে বৃষ্টি ধেয়ে আসছে। পাহাড়ের রাজ্যে নিয়মই এমন, যে কোন সময় এক পশলা কান্না করে নেয় আকাশ। কোটবাড়ি রোড থেকে হাইওয়েতে ওঠার আগেই আমাদের ধরে ফেলল বৃষ্টি।

এসবিসি/এসবি