জাকারিয়ার আত্মজীবনী

জাকারিয়ার আত্মজীবনী

জাকারিয়া চৌধুরী : তুমি যাকে উচ্চে তুলে ধরছ সে তোমাকে নিচে দেখছে। এটা স্বাভাবিক এবং তাই হবার কথা। যাকে লিফট আপ করলে সে ডান বাম, সামনে পেছনে কিংবা উপরে নিচে দেখতে শিখেছে কিনা, সে খেয়াল কি রেখেছিলে? রাখোনি মনে হয়। বেসিক শিক্ষায় যদি কারো অভাব থাকে আর তাকেই কোন যাচাই বাছাই ছাড়া উপরে তুলে দাও এবং সে যদি তখন তোমাকে তাচ্ছিল্য করে তবে তাকে আমি বড় দোষী ভাবি না। স্বাভাবিক চোখ আর কান থেকেও যে অন্ধ বধির, তার কাছে স্ট্যান্ডার্ড কিছু আশা করা বাতুলতা মাত্র। সব কিছু ইগনোর করে বিশ্বাস, আস্থা আবার বিশ্বাসই যদি তোমার ভরসা বিন্দু হয়, তবে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দাও। ভবিষ্যত শিলালিপির লেখক স্বয়ং তুমি নিজেই। যাকে তিলে তিলে বড় করে তুলেছো সে কি আকার আকৃতিতেই শুধু বেড়েছে নাকি তার মনোজগৎও বড় হয়েছে, সে খেয়াল কি আছে?

আজ তোমার পোষা ময়না যদি তোমাকেই না চেনে তবে একটা কাজই আর বাকি আছে। ঈশ্বরের আদালতে একটা নালিশি মেইল করে রাখো, পরে কাজে আসলেও আসতে পারে। তোমার আজকের এই অনলাইন জিডি-ই হয়ত শেষ বিচার কিংবা অন দ্যা ডে অব জাজমেন্টে কাজে আসল। এছাড়া আপাতত তোমার করনীয় কিছু দেখছি না। শেষ বিচার বা ON THAT DAY WHICH HAS NO SUN SET, WHERE THERE IS NO MERCY FOR CRIMINALS, FOR THOSE WHO STEALS OTHERS PROPERTY INSTEAD OF CUSTODY AND MANY OTHER LACS OF CRIMES….. সেই অসীম সময় জুড়ে চলা গণআদালতে এমন কেউ একজন হিসেবে নেবেন, যা নিশ্চিতভাবেই হবে ত্রুটিহীন। ছোট্র একটা পিঁপড়া এক গ্রাসে যতটুকু খাবার গ্রহণ করতে পারে, সে পরিমান খাবারকেও ৭০ ভাগে ভাগ করে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ফাইনাল জাজমেন্ট এর বিচারকে মুসলিম ধর্মমতে এভাবেই স্পষ্ট ধারনা দেয়া হয়েছে। কেউ যদি কারো কাছে এক পয়সাও দেনা থাকে তবে সে দেনার দায় হিসেবে পাওনাদার যদি দেনাদারের জীবনের সকল পুণ্যও দাবি করে বসে, তবে তাকে সেটা পরিশোধ করতে হবে। এ কোলেট্যারাল দেনা পাওনায় ঈশ্বর নিজেকে জড়াবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার প্রেরিত সর্বশেষ ধর্ম এবং সেই ধর্মগ্রন্থে। তবে হ্যাঁ, কারো পতন দৃশ্য দেখার আশায় শেষ বিচার পর্যন্ত অপেক্ষার ঈমান যেন ফুরিয়ে গেছে মানুষের জীবন থেকে। পতন হয় এবং সেটা জীবদ্দশাতেই দেখতে পাওয়া যায়।

পতনের মহাযাত্রা যখন শুরু হয়, প্রতি পল আর অনুপলে সেটা টের পাওয়া যায়। গনিতবিদেরা একে 1/2mvsq বলবেন নাকি mgh ধরে হিসেব কষবেন সে তাদের ব্যাপার। অন্যের পতন যাত্রার দৃশ্য কখনো পুলকিত হবার নয়, বরং মানুষ কেন যে বিচলিত হয় না সেটাই আমাকে নিয়ত ভাবায়। পতিতজনা যে তোমার মাথাতেই ভেংগে পড়বেনা তার গ্যারান্টি তোমায় কে দিয়েছে? আর সে যদি তোমার উপরেই পড়ে তবে নিশ্চিত থাকো, এ ঘটনায় সে যদি আহত হয় তবে নিহত তুমি হবে নিশ্চিত। আহা, অপরাধীর পরিণতি দেখতে গিয়ে নিয়তির খেলায় নিজেই লাশ হয়ে এলে!! অহংকারে যার চোখ একবার বন্ধ হতে শেখে, মহাপ্রলয়ে সে চোখই তোমায় পথ চিনিয়ে নেবে তা বিশ্বাস করিনা।

প্রিয় পাঠক, শিলালিপির প্রতিটা পর্বই আমার চোখে প্রসব বেদনায় কাতরানো নি:সংগ অসহায় অক্ষম নারীর চেয়ে কম যাতনার নয়। গত ১৮ দিন এ প্রসংগে কিছু লেখা হয়নি অস্থিরতা আর যাতনার কালো হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে । শিলালিপি যতই গভীর থেকে গভীরে যাবে, আমার প্রাণ যেন ততই কারো হাতের মুঠোয় কিংবা কোন কর্পোরেট গোষ্ঠীর চা চক্রে এক কিউব সুগার হিসেবে আবির্ভূত হবে। আমার জীবন যেন নিলামে তোলার সুযোগও দেয়া হবে না। যে কেউ চাইলেই তার ধুমায়িত চায়ে আমাকে প্রাণসমেত গুলে নিতে পারে। কে কখন কার কাপে এক কিউব চিনির মত আমাকে মিশিয়ে নিয়েছে সে খবর কে রাখবে বলুন ? তবু চলুন, কন্সট্রাকশন সাইটে একবার অন্তত চোখ বুলিয়ে আসি। মূল গল্পটা যেন অন্তত জীবিত থাকে।

আজ থেকেই শিলালিপির মাঝে নতুন শিলালিপির প্রবেশ ঘটবে। খুব কায়দা করে নিজের কানা ছেলেকে ভাইয়ের ভাতিজা পদ্মলোচন বলে পরিচয় করিয়ে দেব। সেই হিসেবে বলা যায়, মা মনি হসপিটালে আজ থেকে দেখতে পাবেন রাধা নামের নতুন এক যুবতীর নির্ভেজাল অথচ সাবলীল উপস্থিতি। প্রাচীন মহাভারতে নিজ মামী রাধার সাথে কৃষ্ণের মিলনস্থল ছিল যমুনার ঘাটে। তাদের ইশারার চালাচালি করত কৃষ্ণের বন্ধু সুবল। যমুনার জন্ম নিয়ে কৃষ্ণ যেমন কখনো উহু শব্দটি উচ্চারণ করেনি, এখানে তেমনি এমন একজনের উপস্থিতি দেখা দেবে যে সকলের মাঝে উপস্থিত থেকেও নিজেকে ইনভিজিবল করে রাখতে ওস্তাদ। ফলে এখানে না আছে যমুনার ঘাট, না আছে এমন একজন সুবল যিনি  ব্যাভিচারকেও আইনের ফোঁকর দিয়ে স্বাভাবিক চলমান যেমন রাখত পারবেন তেমনি চানক্য স্টাইলে ভোগ, বিলাস আর নিরামিষভোজী হিসেবে মহান কীর্তিমান, বিজয়ী বীর হিসেবে খুব সামান্য সময়ের এক ঝড় তুলবেন। যে ঝড়ের তীব্রতায় মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে যেতে পারেন হাজার খানিক দেব দেবী। এখানে আছে রূপালী TCL ফ্লিপ মোবাইল আর শক্তপোক্ত কিছু খাট। বিজ্ঞান জয়যাত্রার অন্তিম এ সময়ে এটা ভাবা অবান্তর যে, পানি আনার ছলে রাধা আসবে যমুনার ঘাটে আর কৃষ্ণ তখন নিজেকে দেখাবে জলের ছায়ে- কদম ডালে বসে। ফলে খাটের যে নোংরা আওয়াজ আমরা পাব, তা কেবল মাত্র কৃষ্ণের জবানবন্দী থেকেই। তবে সে সময় আসবে বিস্তর দেরিতে। তার আগে ঘরের ফ্লোর ঢালাই করতে হবে। শিশুকালে বাবা একদা বলেছিলেন- নৌকা আর বিয়ে আর ঘরের কাজে খুব সাবধানে এগুতে হয়। কারন এ দুই কাজের শুরু আছে শেষ যেন নেই।

এসবিসি/ জেডসি/এসবি