খাদ্যের জন্য বাংলাদেশ আর হাত পাতবে না

খাদ্যের জন্য বাংলাদেশ আর হাত পাতবে না

এসবিসি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আজ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (কেআইবি) ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং খাদ্যের জন্য যেন আর কোনদিন বাংলাদেশকে কারো কাছে হাত পাততে না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বাসস বাংলা

রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে কেআইবি’র দুদিনব্যাপী কনভেনশন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং কেআইবি সভাপতি এএমএম সালেহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইএফডিসি’র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও স্কট জে অ্যাঞ্জেল এবং কেআইবি মহাসচিব মো. খায়রুল আলম প্রিন্সও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। কৃষিবিদ ড. মীর্জা আব্দুল জলিল, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মান্নান এবং কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিমকে কেআইবি’র পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে এই পদক তুলে দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর যেন বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ভিক্ষার হাত বাড়াতে না হয় সেদিকে বিশেষভাবে কৃষিবিদরা লক্ষ্য রাখবেন, আমরা সেটাই চাই। এইটুকুই আপনাদের কাছে অনুরোধ করে যাচ্ছি। সামনে আমাদের নির্বাচন আমরা একটানা দুইমেয়াদে থাকলাম। তৃতীয় মেয়াদে জনগণ ভোট দিলে আসবো, না দিলে নয়। কিন্তু আমরা চাই, যে অগ্রযাত্রটা শুরু করেছি, বাংলাদেশ আজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি, সেটা যেন থেমে না থাকে। আমাদের আওয়ামী লীগের নীতি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবো, কারো কাছে হাত পাতবো না। আর বিএনপি’র নীতি খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়া যাবে না, বিদেশ থেকে ভিক্ষা আনতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ কিন্তু আমাদের এখন এসব পণ্যে ভ্যালু অ্যাড করতে হবে, প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে হবে। কারণ, আমাদের দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে, বিদেশে বাজার ও তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই এগুলো আমরা দেশে যেমন বিক্রী করতে পারবো তেমনি বিদেশেও রপ্তানী করতে পারবো। ‘তাই কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সেজন্য আমরা উৎসাহিত করছি আমাদের বিনিয়োগটা যেন এদিকে হয়। আমরা তাহলে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হতে পারবো,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

উন্নয়নের জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতোমধ্যে খরা, লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু বেশ কিছু ফসল, ফলদবৃক্ষ ও অন্যান্য গাছের উচ্চফলনশীল জাত আপনারা উদ্ভাবন করেছেন। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

কৃষিক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তাঁর সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে আমরা ভাসমান কৃষিক্ষেত করতে পারি। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জের কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় (গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া-কোটালিপাড়া) কচুরিপানার ওপর বেড তৈরি করে মানুষকে ফসল ফলাতে দেখেছি। এরপর কৃষিমন্ত্রীকে বলেছি। সারাদেশে একই প্রক্রিয়ায় চাষাবাদ শুরু করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিন্তু অনেকে এভাবে চাষ করতে শুরুও করে দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে দেশের কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী দু’দিনব্যাপী এ কনভেনশন উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার  মোড়কও উম্মোচন করেন।

এসবিসি/এসবি