কালো কোকিল ১

কালো কোকিল ১

শুভ্র রফিক : বদি। মুহাম্মদ বদিউজ্জামান শুয়ে আছে উপুড় হয়ে। মাথার উপর ভোঁ ভোঁ করে ফুল স্পিডে ফ্যান ঘুরছে। তাতে বদির লুঙ্গি উল্টে মাথা ঢেকে গিয়েছে। সে ঘুমাচ্ছে মাতালের মত। মনে হচ্ছে কুম্ভকর্ণের ঘুম। পাশে তার মোবাইল বেজে চলেছে বিরামহীন । বদির ছোট বোন রূপা বার কয়েক মোবাইল ধরার জন্য দরজা পর্যন্ত এসে ফিরে গেছে। লুঙ্গির ঠিক নেই। সে রুমে ঢুকতে গিয়েও ফিরে এসেছে। কেমন বিব্রতকর অবস্থা! মানুষ কোন দিন এমন বেঁহুশের মত ঘুমাতে পারে?
দরজায় একবার জোরে জোরে কড়া নাড়লে কেমন হয়? তাতে যদি ঘুম ভেঙে লুঙ্গিটা ঠিক করে। কিন্তু ঘুমের লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে না যে এই ঘুম ভাঙবে। বোমা ফুটালেও ঘুম ভাঙবে না। সে তার ভাইকে চেনে।
একটানা তিনদিন ঘুমানোর পরে ঘুম ভাঙলে আবার ঘুমুতে যায়।

‘ভাইয়া তিনদিন ঘুমিয়েও তোমার ঘুম শেষ হল না! আবার ঘুমাতে যাচ্ছ? কিছু খেয়ে আবার ঘুমাও।’

‘খাবার ঢেকে টেবিলে রেখে যা। আগে ঘুম শেষ করি। পরে খাবার শেষ করব। খাবার তো চলে যাচ্ছে না।’
‘তুমি এত ঘুমাও কী করে?’

‘আমার কাছে খাবারের চেয়ে ঘুমের মূল্য অনেক বেশি।

বেঁচে থাকলে প্রচুর খেতে পারব। কিন্তু ঘুম না এলে ঘুমাতে পারব না।’

‘আমি কিন্তু জগ ভরে পানি এনে গায়ে ঢেলে দেব। তাড়াতাড়ি ওঠো বলছি।’

বদি কাঁথা মুড়ে শুয়ে পরল। বলল, ‘এবার যত পারিস পানি ঢাল।’

রূপা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিতেই বদি কাপড় ঠিক করে বলল, ‘রূপানাকি? ভেতরে আয়।’

রূপা বলল, ‘ভাইয়া এ ক’দিন কই ছিলে?’

‘কই ছিলাম সেটা পরে জানলেও হবে। আগে এক কাপ গরম চা বানিয়ে নিয়ে আয়। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে।’

রূপা চা বানিয়ে এনে দেখে বদি আবার উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে পরেছে।

এসবিসি/ এসআর/এসবি