সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

 

এসবিসি ডেস্ক : বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন করেন কনভেনশন সেন্টার, ডায়াগনস্টিক ও অনকোলজি ভবন এবং ডক্টরস’ ডরমেটরি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বেসরকারি খাতে এখন অনেক মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠছে। কিন্তু সেগুলোতে পড়াশোনাটা কেমন হচ্ছে তা আমাদের দেখতে হবে। সেখানে প্রকৃত ডাক্তার গড়ে উঠছে কিনা সেটা আমাদের দেখা দরকার। একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পারবে তা নজরদারিতে রাখতে।’ বাসস বাংলা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. কনক কান্তি বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়র সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং ঢাকাস্থ কোরীয় রাষ্ট্রদূতের পক্ষে চোও মিন জো বক্তৃতা করেন। প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. জুলফিকার রহমান অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বিএসএমএমইউ’র উত্তর পাশে ৩ দশমিক ৪ একর জায়গায় এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক বিশেষায়িত (সুপার স্পেশালাইজড) হাসপাতালটি। নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ সুদে ৪০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে ১৫ বছর।

প্রকল্পের আওতায় প্রথম ফেজে দুটি বেজমেন্টসহ ১১তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরবর্তী দুই তলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। ১৩ তলা হাসপাতাল ভবনটিতে থাকবে এক হাজার শয্যা। নির্মিতব্য এই হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সেন্টার বেইজড হেলথ কেয়ার ডেলিভারি সিস্টেম চালু হবে। এখান থেকে দৈনিক প্রায় ৩-৪ হাজার রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা পাবে। এক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে এ হাসপাতালটি চালু হলে বার্ষিক আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হবে। যেসব মেডিকেল টেস্টের জন্য বিদেশে যেতে হয়, এটি চালু হলে আর বিদেশে যেতে হবেনা।

শেখ হাসিনা বলেন, যাতে একটা মান সম্মত শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। চিকিৎসা সেবার মানউন্নয়ন করতে চাই। আর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এসব মেডিকেল কলেজে কি পড়াশোনা হচ্ছে, আদৌও সেখানে কোন পড়াশোনা হচ্ছে কি না, সত্যিকার ডাত্তার তৈরী হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে সেটা আমাদের দেখা দরকার। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেবল পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডি এবং রিসার্চ হবে আর গ্রাজুয়েশনসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড সব মেডিকেল কলেজে সম্পন্ন হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চিকিৎসা সেবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা যেন আন্তর্জাতিক মানের হয় সেভাবে কাজ করতে হবে। আরো গবেষণার প্রতি জোর দিতে হবে। আমি আশা করি, আমাদের চিকিৎসক সমাজ গবেষণা করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় দেশে মেডিকেল শিক্ষার নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া। তাতে আমরা অনেকটা সক্ষম হয়েছি। আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের জনগণকে আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিতে পারব।

এসবিসি/এসবি