প্রধানমন্ত্রীকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় মনে করে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় মনে করে বিএনপি

এসবিসি রিপোর্ট : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে শেখ হাসিনার সহযোগিতা করার অর্থ হলো ইসি’র আত্মসমর্পন নিশ্চিত করা।’আজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় প্রধানমন্ত্রী নিজে। সুতরাং আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফন্দি ফিকির করার জন্যই যে তিনি কমিশনকে সহযোগিতা দেবেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এর বহু স্পষ্ট প্রমান তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। কীভাবে ইসি সরকারী দলের ভোট সন্ত্রাস ও ডাকাতির ফলাফলের বৈধতা দেয় সেটি গত নির্বাচনগুলোতে ফুটে উঠেছে।’

 সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ :

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব ধরণের সহযোগিতা দেবেন। এই বক্তব্য জনগণের মধ্যে হাসির খোরাক যুগিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় প্রধানমন্ত্রী নিজে, সুতরাং ইসি-কে তাঁর সহযোগিতা দেয়ার অর্থ হলো, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফন্দি ফিকির করার জন্যই যে তিনি সহযোগিতা দেবেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, কারণ সেটির বহু স্পষ্ট প্রমান তিনি ইতোমধ্যে দিয়েছেন। কীভাবে ইসি সরকারী দলের ভোট সন্ত্রাস ও ডাকাতির ফলাফলের বৈধতা দেয় সেটি গত নির্বাচনগুলোতে ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনার কমিশনকে সহযোগিতা করার অর্থ হলো ইসি’র আত্মসমর্পন নিশ্চিত করা। সেই ইসি’র নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে বসে থাকতে হবে, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার অধিকার থাকবে না। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।

সরকার পুলিশী চাপ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নৈ:শব্দের ভীতিকর পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকবর্জিত অমানবিক নিষ্ঠুরতায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও পাইকারী গ্রেফতার ও প্রবল বন্যার  স্রোতেতের মতো মিথ্যা মামলার অভিঘাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন দু:স্বপ্নের মধ্যে কাটছে। আগামী নির্বাচন সরকারী দলের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিকে দমন করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের বানোয়াট মামলার শিকার করা হয়েছেন দেশের বর্ষীয়ান নেতা ও গুরুতর অসুস্থ বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব তরিকুল ইসলাম। প্রহসন ও হাস্যকর মামলা দেয়া হয়েছে এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং এ্যাডভোকেট রেজাক খান,এ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এর মতো প্রবীণ ও বরেণ্য আইনজীবীসহ বিএনপি’র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ, গায়ক মনির খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, এ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, এ্যাডভোকেট তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, শেখ মো: শামীম, এ্যাডভোকেট ফেরদৌসী আক্তার ওয়াহিদা, সাবেরা আলাউদ্দিন, কাজী মফিজুর রহমানসহ অসংখ্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আমি দলের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মেম্বার, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আজিজুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফ হোসেন, আসাদুল হক লালু, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদুল হক ও রবিউল হকসহ ২১ জনকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমি দলের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরী’র উত্তরার বাসায় গতকাল পুলিশ তল্লাশীর নামে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। আমি পুলিশের এই ন্যাক্ককারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেপরোয়া হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা ক্রমাগত মদদ দিয়ে যাচ্ছে। যেমন এইচ টি ইমাম বলেছেন-যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে হবে। যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় থাকার ‘ডকট্রিন’ এর ওপর ভিত্তি করে চলা এইচ টি ইমামকে তার জীবনে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। এই মতবাদের অর্থ হলো-রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেশ অন্ধকারে তলিয়ে দিয়ে হলেও ক্ষমতায় থাকতে হবে। এই ‘যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় থাকার জন্যই’ এইচ টি ইমাম’রা গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে, গুম-খুন আর ক্রসফায়ারের মনুষ্যত্বহীন কর্মসূচির দ্বারা। এই মতবাদে বিশ^াস করেন বলেই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডে নিহত মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ ডিঙিয়ে তিনি মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন এবং নিজে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের পদ ধরে রেখেছিলেন। যেকোন মূল্যে ক্ষমতায় থাকার জন্যই প্রতিযোগিতা ছাড়া তিনি ছাত্রলীগের ছেলেদের জনপ্রশাসনে ঢুকিয়ে বর্তমানে একদলীয় বাকশালী প্রশাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আয়োজনে লিপ্ত আছেন।

সাংবাদিক বন্ধুরা,
আরও শোনা যাচ্ছে-সামনের দিনগুলোতে সরকার নিজ দলের ক্যাডারদের দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর এর দায় চাপাবে। ককটেল বিষ্ফোরণসহ নানা ধরণের জ্বালাও-পোড়াওয়ের নাশকতা করা হবে পরিকল্পিতভাবে। আর বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে এই নাশকতার দায়ে জড়ানো হবে। এজন্য নাকি আওয়ামী ক্যাডারদের সহযোগিতা করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকার এক গোপন সহিংস পরিকল্পনার ছক আঁটছে বিরোধী দলের কর্মসূচিকে জনগণের সামনে নানাভাবে বিভ্রান্ত ও কালিমালিপ্ত করার জন্য-যেভাবে তারা ২০১৪ ও ১৫ সালের আন্দোলনে নিজেরাই নাশকতা করে বিএনপি’র ওপর এর দায় চাপিয়েছে। বন্ধুরা, যেটির সুষ্পষ্ট তথ্য প্রমান আমরা বারবার আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি।

আইন, বিচার, মামলা, মোকদ্দমা সবই শেখ হাসিনার করায়ত্বে। দেশের কোণে কোণে তল্লাশী, গ্রেফতার, গ্রেফতারের পর রিমান্ডের নামে পুলিশী নির্যাতন, বাড়িতে বাড়িতে পুলিশী হানা এবং মিথ্যা মামলার ছড়াছড়ি সবকিছুই শেখ হাসিনার নির্দেশেই হচ্ছে। আইনের শাসন ও সুবিচার যবনিকার অপর প্রান্তে চলে গেছে। শেখ হাসিনা অসম্ভব শক্তিমান, তাই তিনি নিরঙ্কুশ আধিপত্য ধরে রাখার জন্যই সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ ও বিরোধী রাজনীতিকদের নির্বিচারে কারাগারে নিক্ষেপ করছেন। তিনি বাঘের পিঠে সওয়ার হয়ে এখন নামতে ভয় পাচ্ছেন। সরকার প্রধান নিজের ও তাঁর সরকারের অপকীর্তি ও অনাচারের ভয়ে সবসময় তটস্থ, তাঁর সিংহাসন টলমল করছে। যেকোন সময় পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দমনের তরবারী নিয়ে তিনি ছুটে বেড়াচ্ছেন দিকবিদ্বিক। মোমবাতি নিভে যাওয়ার আগে যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে, তেমনি পতনের আগে ব্যাপক দমননীতির আশ্রয় নিয়েছে সরকার।
আল্লাহ হাফেজ।’’

এসবিসি/এসবি