বিএনপি’র সঙ্গে সমঝোতা হবে না

বিএনপি’র সঙ্গে সমঝোতা হবে না

এসবিসি ডেস্ক : বিএনপি’র সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতার প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বিএনপি’র সঙ্গে কোন ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার কোন উদ্যোগ তাঁর সরকার নেবে না। এমনকি এ ধরনের সমঝোতার কোন উদ্যেগের প্রশ্নই আসে না। বাসস বাংলা

আজ অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে। শুরুতেই যথারীতি প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব । রাজনৈতিক দূরত্ব কমাতে বা কারো অভিমান ভাঙ্গানো সরকারের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ নেয়া হবে কিনা, সংসদ নেতার কাছে এ প্রশ্ন রেখেছিলেন জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত আজকে উন্নয়নের ছোঁয়া যে দিতে পেরেছি সেটা হচ্ছে বড় পাওয়া। এখানে কে মান-অভিমান করলো, কার মান ভাঙ্গতে যাব সেটা আমি জানি না।’

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মারা যাবার পর বিএনপি নেত্রীর গুলশানের কার্যালয়ে গিয়ে ঢুকতে না পারার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে যদি অপমান হয়ে ফিরে আসতে হয় সেখানে আর যাবার কোন ইচ্ছে আমার নেই। এইটুকু আমি বলতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নীতির এবং রাষ্ট্রের আইন-কানুন সংশ্লিষ্ট। এখানে কোন রাজনৈতিক মান-অভিমানের প্রশ্ন নেই বরং রাজনৈতিক নীতি এবং সিদ্ধান্তের প্রশ্ন এটি। আর হচ্ছে আইনের প্রশ্ন।
কারান্তরীণ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি অন্যায় করে, অর্থ আত্মসাৎ করে, চুরি করে, খুন করে বা খুনের প্রচেষ্টা চালায়, গ্রেনেড হামলা বা বোমা মারে, তার বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিঃস্বার্থভাবে দেশের মানুষের উন্নয়নে তাঁর সরকার কাজ করছে বলেই আজ দেশের এত দ্রুত উন্নয়ন তাঁর সরকার করতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কোন সরকার এত উন্নয়ন করতে পারেনি কারণ, সেখানে ব্যক্তি স্বার্থ বা গোষ্ঠী স্বার্থটাই দেশের চাইতে বড় ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত হিসেব নিকাশ করি না কতটুকু দিতে পারলাম সেই হিসেবটা করি। কি পেলাম না পেলাম সে হিসেব করি না এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আজকে কাজটা করতে পারছি বলেই দেশটাকে উন্নত করতে পারছি এবং আমাদের উন্নয়নটা হচ্ছে একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ

জাতীয় পার্টির সদস্য নুরুল ইসলাম মিলনের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে দীর্ঘ অবস্থানের কোন সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে, রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।’
সংসদ নেতা বলেন, তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানোর সর্বময় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল দেশের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কেবল মানবিক কারণে প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় আমাদের প্রশংসা করেছে এবং এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য যে বড় একটি বোঝা তাও তারা স্বীকার করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের বিষয়েও বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন পাচ্ছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন কোন দেশ প্রত্যক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করছে আবার কোন কোন দেশ পরোক্ষভাবে বা গোপনে চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি চীন এবং ভারত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ঘরবাড়ি তৈরী করছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এক ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার কতৃর্ক রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিতাড়িত করার ইস্যুতে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রসঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের সদস্য এম এ মালেকের এক প্রশ্নের উত্তরে জানান,  তাঁর সরকার ৫টি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), ২টি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), ৩ স্তর বিশিষ্ট রিং রোড, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাস পরিবহন সেক্টর পুনর্গঠনের ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাভার ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কি.মি. দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গণপরিবহন সুবিধা সম্পন্ন পাতাল রেল এবং সাভারের বলিয়াপুর থেকে নিমতলী-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ২৪ কি.মি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে।
এসবিসি/এসবি