সিনহা আসল কথাই প্রকাশ করেছেন

সিনহা আসল কথাই প্রকাশ করেছেন

এসবিসি রিপোর্ট : সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার লেখা বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপি’র সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ‘সিনহার বক্তব্যে আরও পরিষ্কার হলো, বন্দুকের নলের মুখে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সরকার। এরপর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় রায় দিয়ে কারাবন্দি করে এক নম্বর মিশন কার্যকর করেছে। এখন দুই নম্বর মিশন কার্যকর করতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের মামলায় আগামী ১০ অক্টোবর রায় দেয়া হবে।’

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আজ নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন,  ‘দীর্ঘ ১৪ বছর ঝুলন্ত রাখার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা সুপরিকল্পিত নীলনকশারই অংশ।’ সুপরিকল্পিতভাবে দেশকে ধ্বংস করার সকল ষড়যন্ত্র সম্পন্ন করেছে সরকার। বন্দুকের নলের মুখে দেশ ত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য হওয়া প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তাঁর বইতে উল্লেখ করেছেন কিভাবে তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে, কিভাবে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করে বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তিনি তাঁর আত্মজীবনী বইয়ে পরিস্কার উল্লেখ করেছেন-তিনি সরকারের চাপে ও হুমকির মুখে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। বিচারপতি সিনহা তাঁর ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ে পরিষ্কার বলেছেন-বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার হুমকি ও ভীতি প্রর্দশনের মুখে তিনি দেশ ছেড়েছেন এবং তাঁর পরিবারকে জিম্মি করে বিদেশে থাকাকালীন অবস্থায় তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। বিবিসির রিপোর্টসহ দেশের কিছু গণমাধ্যমে আজকে তা প্রকাশ পেয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার মামলায় রায় প্রকাশের আগেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা নানা ধরণের বক্তব্য রাখছেন। বলছেন-এই রায় প্রকাশিত হওয়ার পর বিএনপি বিপাকে পড়বে। তার মানে সরকার জানে কী রায় হতে যাচ্ছে অথবা সরকারই ২১ আগস্ট মামলার রায় লিখে দিচ্ছে। এখন ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা হবে কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মুখ বন্ধ করতে, গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে ফেলতে গতকাল ভোটারবিহীন সংসদে পাশ হলো বির্তকিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সরকারের লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এই কালো আইন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে অথবা যেকোন মাধ্যমইে যাতে দূর্নীতির কোন খবর প্রকাশিত না হয়, অথবা প্রকাশ করতে না পারেন সেজন্যই এই ন্যাক্কারজনক কালো আইন তৈরী করা হলো।

এসবিসি/এসবি