অনন্য সম্মানে ভূষিত ড. মাহবুব মোল্লা

অনন্য সম্মানে ভূষিত ড. মাহবুব মোল্লা

এসবিসি ডেস্ক : এশিয়ান কমিউনিকেশন অফ বিজনেস’স এন্ড সিএমও এর সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরষ্কার “The Bangladesh Education Leadership Awards পেলেন সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। কাজের গুনগত মান, বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা, দৃষ্টিভঙ্গির দূরদর্শিতা, সফলতার নিশ্চয়তা এবং সামাজিক মুল্যবোধের পরিবর্তন, এমনকি অন্যের জীবনাচরনেও পরিবর্তন আনতে পারার অবদান হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। রোববার  হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এশিয়ান কমিউনিকেশন অফ বিজনেস এবং সিএমও এশিয়া আয়োজিত’ এক অনুষ্ঠানে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাংলদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বের পুরষ্কারের বিবেচ্য সেই সকল ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের যারা বিশ্বাস করেন যে, শ্রেষ্ঠত্ব অসীম এবং তা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ধারাকে পরিবর্তন করতে পারে।বিচারকমন্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটটি অর্জন করেছেন। এই পুরষ্কার তিনিই অর্জন করেন যার কর্ম ও চিন্তায় নিহিত রয়েছে নেতৃত্বের সাহসী প্রতিভা । কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বের ধারায় অভিনবত্বের ইংগিত বহন করে এই পুরষ্কার।

বাংলাদেশ শিক্ষা লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস, অনুসন্ধানের অন্তরালে আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখেন, ইতিহাস ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গভেষনা করে থাকেন এমন সকল ব্যক্তিবর্গের স্বমন্বয়ে গঠিত গভেষকবৃন্দ। । অসাধারন অবদানের মধ্য দিয়ে নিজেদের কীর্তির স্মৃতিচিহ্ন রেখে যাচ্ছেন এমন সব ব্যক্তির ক্ষুদ্র তালিকা তৈরি করা গভেষক দলের জন্য একটি সাংকেতিক বা প্রতিকী কাজ। সারাবিশ্বের অন্য একদল বয়জ্যেষ্ঠ অভিজ্ঞ বিষেশজ্ঞরা এই সংক্ষিপ্ত তালিকার পুনঃপর্যালোচনা করেন। এবছর শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন কেটাগোরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়জন অধ্যাপক এই সম্মাননা পান।

বাংলাদেশের জাগরণ চিন্তার সাথে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা নিজেকে সম্পকৃক্ত করেছেন শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে। ১৯৯৩ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল। তাঁর জীবন কর্মময়। দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তার ও সংস্কার সাধনে তিনি অনবদ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। কর্মবীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার নাতিদীর্ঘ ও একনজরে জীবনবৃত্তান্ত।

জন্ম: ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা ২ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে তৎকালীন ডেমরা থানার মাতুয়াইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মোল্লা পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মোসাম্মৎ মোখলেছুননেসার পাঁচ পুত্রের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

শিক্ষাজীবন: মাতুয়াইল ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষাজীবনের সূচনা। ১৯৮৬ সালে মাতুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৮৮ সালে নটরডেম কলেজ হতে দ্বিতীয় বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।  ১৯৯০ সালে সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ হতে বিএসসি  এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে এমএসসি, ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএড(প্রশাসন) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৯ সালে তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইর্য়ক থেকে অভিসন্দর্ভের ওপর প্রফেসর ড. কাজী দীন মোহাম্মদ ও প্রফেসর উইলসন এর তত্ত্বাবধানে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন ।

কর্মজীবন:  ১৯৯৩ থেকে অদ্যাবধি সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০০৩ সালে তারই নেতৃত্বে কলেজ শাখা উন্মুক্ত হয়। ২০১০ সালে যাত্রাবাড়ীর নিকটবর্তী ডেমরাতে নিজ নামে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

সাফল্য: ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার হাত ধরেই সামসুল হক খান জুনিয়র হাই স্কুল পুরোদস্তুর হাইস্কুল হয়ে উঠে। স্বল্পকালেরমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হয়। ২০০৩ সালে কলেজ শাখা উন্মুক্ত হয়। ২০১৫ সালে সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ  ঝঝঈ তে ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করে। ২০১২ সালে অধিকার করে দ্বিতীয় স্থান। বেশিরভাগ বছর  শতভাগ পাশসহ ঢাকা বোর্ডে সেরাদের সাড়িতে অবস্থান করে। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ নতুন হয়েও সাফল্য আলোড়ন সৃষ্টি করে। দেশের অন্যতম খ্যাতনামা মহাবিদ্যালয় হিসাবে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ এখন সুপরিচিত। ২০০৮ সালে ঢাকা বোর্ডে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা লাভ করে। ২০০৫ সালে প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কর্তৃক শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের সম্মাননা লাভ করেন।

এই গতিশীল প্রাণবন্ত কর্মবীর ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর অহংকার।

এসবিসি/এসআই/এসবি