ভোলায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি

ভোলায় ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি

ভোলা অফিস :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্ম চাপের প্রভাবে অতি জোয়ারে ও টানা ২ দিনে প্রবল বর্ষনে ভোলার ৪ উপজেলায় বাঁধের ভেতর ও বাইরের অন্তত ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।

জোয়ার ভাটার মধ্যে এসব মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছে। এদিকে দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে জেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র নৌযান যাত্রীবাহি সি-ট্রাক রয়েছে বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো যাত্রীরা। পাউবো সূত্র জানিয়েছে , মেঘনার পানি বিপদ সীমার ৭৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র গুলো জানিয়েছে, গত দুই দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পূর্ব কন্দকপুর,রামদাসপুর গ্রাম,কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর অতি জোয়ারের পানিতে কয়েক ফুট তলিয়ে যায়। একই অবস্থা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর, নেয়ামতপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের।

এছাড়া মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নেরর দাসেরহাট, সোনারচর, জোয়ারে পানিতে ডুবে রয়েছে। মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড়, পূর্ব আন্দিরপাড়, রামনেওয়াজ বাজার, লঞ্চঘাট ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা পানিতে ডুবে রয়েছে বলে জানান স্থানীয় মেম্বার মোঃ মিজানুর রহমান।

মনপুরা থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীচর, ঢালচর, চরনিজাম, চর শামসুদ্দিন জোয়ারে পানিতে দিনে-রাতে দুবেলা পানি বন্দি অবস্থায় থাকতে হয় চরের বাসিন্দাদের। অপর দিকে চরফ্যাশন উপজেলার কুকরী-মুকরী, ঢালচর, চর পাতিলাসহ ৬টি গ্রাম জোয়ার ভাটার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।

ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান কালাম পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান, ঢালচর ইউনিয়নের নিচু অধিকাংশ এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। সকাল থেকে ঝড়ো বাতাস বইছে এতে নদী ও সাগর উত্তাল রয়েছে।

কুকরী-মুকরী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেন জানান, গত ২ দিন ধরে প্রবল জোয়ারে কুকরী-মুকরীর বেশীরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন মানুষ।

ভোলা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা দপ্তরের পরিচালক মো: সাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় সেচ্ছসেবককর্মীদেরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও লোকজনকে সতর্কস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। নিম্মচাপের প্রভাবে এ বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে।
এসবিসি/এইচ আর/এইচআরএস/ওএফ