ডিজিটাল সমস্যা

ডিজিটাল সমস্যা

প্রাককথন : ফেসবুক এখন সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম, অনেক খবর মেলে এখানে। তাই আমাদের একটা ডেস্ক গঠন করা হচ্ছে ফেসবুকের জন্য। এই টিম গভীর রাতে জানান দিলো, একটা ভালো লেখা তাদের রাডারে ধরা পড়েছে। লিখেছেন প্রবাসী এক বাংলাদেশী, খুব চমৎকার লেখা। আর বিষয়টাতে আসলেই ভাবনার খোরাক আছে। লেখাটা দেখতে গিয়ে লেখকের নাম দেখে একটু থমকে গেলাম। খুব প্রিয় একটি মুখ, তবুও থমকে রইলাম কিছু সময়। ফেসবুকে প্রকাশিত ভালো মানের লেখা বা ছবি ছাপানোর জন্য আমরা সাধারণত অনুমতি চাই না। আমাদের যুক্তি, ফেসবুকে প্রকাশিত আইটেম এখন ওপেন ম্যাটার। বিশেষ কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকলে রেফারেন্স দিয়ে ছেপে দিলে সমস্যা হয় বলে আমরা মনে করি না। সমস্যা হয়নি এখনো। কিন্তু এই লেখাটায় হাত দেয়ার আগে বেশ কিছুক্ষণ ভাবতে হয়েছে। লিখেছেন জহির ভাই, আমাদের শ্রদ্ধেয় জহিরুল চৌধুরী। তার সময়ের অন্যতম এক তুখোড় ছাত্রনেতা। তারপর সাংবাদিক। পেশায় অনেক সিনিয়র, তাই একটু ভেবে নিতেই হয়। আর ভাবতে ভাবতেই কথা হয়ে গেল তার সাথে। নিউইয়র্ক প্রবাসী জহিরুল চৌধুরী সব সময় সাবলীল ভাষায় সমকালীন বিভিন্ন প্রসঙ্গে ফেসবুকে লিখেন। তার এই লেখার উপলক্ষ চৌধুরী জুনিয়র, তার নাম রাশদান চৌধুরী। বাংলাবাজার পত্রিকার সাবেক চিফ রিপোর্টার জহিরুল চৌধুরীর ফেসবুক থেকে লেখাটি হুবহু পত্রস্থ করা হল : সম্পাদক


ডিজিটাল সমস্যা
, এই শিরোনামে জহিরুল চৌধুরী লিখেছেন, “দশ বছরের এই বালকটির নাম রাশদান (Rashdan Chowdhury)। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। লেখাপড়ায় মোটামুটি, কিন্তু পাঠ্য বইয়ের বাইরে আর কোনো বই পড়ায় মন নেই। খুঁজে পড়ার আগ্রহও নেই। স্কুলের পাঠাগার থেকে বই আনা হয়, কিন্তু সে বই আবার ফেরত যায় কয়েকটি পাতা উল্টানোর পরই। বইয়ের ভেতরে ঢুকে, এর কাহিনী কিংবা প্রতিটি শব্দ থেকে মজা লুটার কোনো চেষ্টা নেই! ফলে শব্দ ভাণ্ডার তথৈবচ।johir-vai

এটি কেবল রাশদানের সমস্যা না। এটা প্রজন্মের সমস্যা- যাদের বয়স আঠারো-কুড়ি বছরের নীচে। পাঠাগারের জিম্মাদাররা এটা ভালো করেই জানেন। তারা চিন্তিত, স্থানীয় পাঠাগারে প্রতিদিন যে সংখ্যক পড়ুয়া ঢুকেন, তাদের ৯৫ ভাগ ছুটেন কম্পিউটারে। অনলাইনে চিঠিপত্র লেখা কিংবা পড়ার উদ্দেশ্যে। রেফারেন্স বিভাগ কিংবা সংবাদপত্র পড়ার বিভাগটি প্রায় খালি পড়ে থাকে।

পড়ার প্রতি প্রজন্মের এই অনাগ্রহ দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন। তারা এবার ডিজিটাল বই বের করেছেন। সেটি কানে লাগিয়ে শুনতে হয়। চোখের কোনো কাজ নেই, হাতের তো নেইই! হাত এবং চোখ তাই অন্য আরেকটি ডিভাইসে। সেখানে খেলা হচ্ছে ইউটিউব থেকে ডাউনলোড করা গেইম।

কর্তৃপক্ষ জানেন, এই প্রজন্ম “মাল্টি টাস্কে” অভ্যস্ত। তারাও সে সুযোগ রেখেছেন। কিন্তু মগজ তো একটাই, যদিও সেটা ভাগ-ভাগ করা। আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম, ‘এক মাথায় কত সমস্যা সামলাবে?’ উত্তর পেলাম, ‘মানুষের মগজেরও একেক অংশের একেক কাজ। ডিজিটাল বইটি ঢুকছে মগজের একদিকে। আর গেইম ফাংশনিং করছে মগজের আরেক অংশ! কিন্তু মনন এবং মেধার সম্মিলন হবে কখন? যদি না হয়, তাহলে এটা তো এক বিশাল সমস্যা! এ থেকে বাঁচার উপায় কী?”

জহিরুল চৌধুরী, নিউইয়র্ক, ১ অক্টোবর ২০১৬

এসবিসি/এসবি